আজিজুর রহমান রাজু:
ঈদগাঁও উপজেলায় উঠতি বয়সী তরুণদের ইয়াবা পাচার ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সহজে ও অল্প সময়ে অধিক অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে এক শ্রেণির মাদক কারবারি তরুণদের ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্প্রতি ইয়াবা পাচারের সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনা এলাকার শহীদের মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি আবারও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের কালু ফকিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাজির হোসেনের ছেলে আরিফ আবদুল্লাহ (২৫)। অনেকের মতে, এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং এলাকায় বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্কের ভয়াবহ বাস্তবতার প্রতিফলন।
এর আগে ভোররাতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে জালালাবাদের লরাবাগ এলাকা থেকে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। এছাড়া ১৭ জুন রাতে জালালাবাদের বাঁশঘাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঈদগাঁও থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও দীর্ঘদিনের আলোচনায় আরও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের নামও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিয়মিত অভিযান ও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা কতটুকু দৃশ্যমান, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদের মতে, শুধু বাহক নয়; মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতা, অর্থদাতা ও আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাদক পরিবহন নয়, তরুণদের একটি অংশের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ভাদিতলা দরগাপাড়া, ডালারদোয়ার, ফকিরাবাজার, রাসুলপীর গ্রাম, ইসলামপুর জুমনগর ও সাইনবোর্ড এলাকায় বিভিন্ন সময়ে মাদক সেবন ও কারবারের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জালালাবাদ ও পোকখালীর কয়েকটি এলাকাকেও মাদক চোরাচালান ও সেবনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের মতে, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনিক কঠোরতার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ, পারিবারিক সচেতনতা এবং মাদক কারবারের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও অনেক তরুণ এই অন্ধকার জগতের বলি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
