মো. ফারুক, পেকুয়া;
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অগ্রগতি তদারকির লক্ষ্যে আগামী ১২ জুন দুই দিনের সরকারি সফরে কক্সবাজার আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল ও নির্বিঘ্ন করতে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেই তাঁর এ সফর বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে জেলার প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনপূর্ব চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, ১২ জুন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাঁকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভ্যর্থনা জানাবেন। এরপর তিনি সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্রিফিং গ্রহণ করবেন।
পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ পরিদর্শনে বের হবেন। এর মধ্যে রয়েছে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, জুলাই-২৪ আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা এবং নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার অনুষ্ঠানস্থল।
বিশেষ করে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারতস্থল, সম্ভাব্য জনসমাগম এলাকা, ভিআইপি চলাচলের রুট, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করবেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
সফরকালে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভা এলাকায় আয়োজিতব্য প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির স্থানও ঘুরে দেখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে মঞ্চ নির্মাণ, দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি এবং সার্বিক জননিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর থেকে কর্মসূচিস্থল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য জনসমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিটি কর্মসূচিস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গঠন, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৃথক কন্ট্রোল রুম স্থাপনের প্রস্তুতিও চলছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এ সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা, সুধী সমাবেশ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পুরো সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন।
সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর ১৩ জুন রাতে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও মন্ত্রীর একান্ত সচিব মুহাম্মদ হাসনাত মোর্শেদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সরকারি সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সফরে মন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
জেলা প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে কক্সবাজারে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও পেকুয়া পৌরসভাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলার অন্যতম বৃহৎ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
