এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের তেচ্ছাপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মোজাম্মেল হক জানান, মঙ্গলবার সকালে আকস্মিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি অবস্থিত আটটি ঘরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘরের ভেতর থেকে আসবাবপত্র ও মালামাল বের করার সুযোগ পাননি বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও তা সম্ভব হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ঘরগুলোর অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। এতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এদিকে খবর পেয়ে চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই বসতঘরগুলো প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিদ্যুতের ত্রুটিজনিত কারণেই এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ লাইনের নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আলম জিকু, উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মেম্বার, ডেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে বলেন, “আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ৮টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ত্রাণ তহবিল থেকে ১১ বান্ডিল ঢেউটিন, প্রতিটি বান্ডিলের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা নগদ সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।”