এম. মনছুর আলম, চকরিয়া:
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (৮ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে একজন শিশু এবং অপরজন বাসচালক আলম বলে নিশ্চিত করেছেন মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুব আলম।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির কারণে মহাসড়ক কিছুটা পিচ্ছিল হয়ে যায়। এ সময় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার এভারগ্রিন পরিবহনের একটি এসি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা চকরিয়া সার্ভিস নামে একটি লোকাল মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে দুটি বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। মিনিবাসটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে এবং এভারগ্রিন পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে আটকে যায়।

ঘটনাস্থলেই লোকাল বাসের চালক আলম ও একটি শিশু নিহত হন। এতে অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন।
আহতদের মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতাল, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী যাত্রীসহ একাধিকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এভারগ্রিন পরিবহনের যাত্রী সাঈদ বলেন, “আমার মা নূর আয়েশাকে নিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে হার্টের চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলাম। সঙ্গে আমার বোন ফারজানা ও মামা ফয়েজ আহমদ ছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় আমরা সবাই আহত হয়ে পড়েছি।”
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, “মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। অনেক যাত্রী আহত হয়েছেন। বাস দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
