স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া;

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ১৩ ও ১৪ জুন দুই দিনের সফরে তিনি কক্সবাজারে আসবেন। সফরকালে পেকুয়া পৌরসভা ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনসহ জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুকে ঘিরে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে এ সফরে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বা অবকাঠামোগত উদ্যোগের ঘোষণাও আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, ১৩ জুন শনিবার রাত ৮টায় আকাশপথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে স্বাগত জানাবেন। পরে তিনি কক্সবাজার সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন।

পরদিন ১৪ জুন রোববার সকাল ১০টায় সার্কিট হাউস থেকে পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী-মাঝারখালী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং একটি সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এরপর তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে গিয়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ‘সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে তিনি সাফারি পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করবেন।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে জুলাই-২৪ আন্দোলনে কক্সবাজার জেলার প্রথম শহীদ পেকুয়া উপজেলার সন্তান শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টায় মেহেরনামা এলাকায় পৌঁছে তিনি কবর জিয়ারত, বিশেষ মোনাজাত এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

এরপর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন ধরে পৃথক উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনরত এলাকাবাসীর জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে পেকুয়ায় পৌঁছে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয়দের আশা, পৌরসভা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

পেকুয়ায় অবস্থানকালে নামাজ আদায় ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তিনি চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সেখানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং স্থানীয় উন্নয়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করবেন এবং সন্ধ্যায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জেলার বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সভায় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা/মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে পেকুয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজার জেলায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা, কর্মী সমাবেশ, গণসংযোগ এবং প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্দীপনা, আর সাধারণ মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে উন্নয়ন প্রত্যাশার নতুন আলো।

স্থানীয়দের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর শুধু রাজনৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং পেকুয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো, নাগরিক সুবিধা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।