এম. মনছুর আলম, চকরিয়া :

প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় সম্প্রতি কক্সবাজারের নতুন উপজেলা হিসেবে মাতামুহুরী উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে উপজেলার অন্তর্ভুক্ত সাতটি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।

জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে নিরাপদ ও পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে নবগঠিত উপজেলার প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসাধারণের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য প্রশাসনিক ভবন নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে বিএমচর-কোনাখালী বটতলী স্টেশন এলাকায় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার, চকরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) অভিজিৎ দাশ, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ, অর্থ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, অবিভক্ত বিএমচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আজিজুল হক মধুসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও শাহীন দেলোয়ার বলেন, নবগঠিত উপজেলার প্রশাসনিক ভবন, ভূমি অফিস, থানা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানগুলো জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনে আসবেন। প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন ও চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মাতামুহুরী উপজেলার বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ বলেন, প্রশাসনিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন ও চূড়ান্তকরণের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এ পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। প্রশাসনিক ভবনগুলো বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নাগরিক সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এতে উপকূলীয় এ জনপদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।”