স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি যৌতুক মামলায় মো. সোলাইমান নামে এক যুবককে আদালতে হাজির হতে চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছেন আদালত। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের বুধামাঝির ঘোনা এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া ও সম্পত্তি ক্রোক সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির না হলে তার অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুনঘোনা এলাকার জিয়াসমিন সোলতানা দায়ের করা মামলায় এর আগে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৮৭ ও ৮৮ ধারায় তার বিরুদ্ধে হুলিয়া ও সম্পত্তি ক্রোকের প্রক্রিয়া শুরু করে আদালত।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৩৯(বি) ধারার ক্ষমতাবলে আদালত তাকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় আইন অনুযায়ী অনুপস্থিতিতেই বিচার ও রায় ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে পারিবারিকভাবে জিয়াসমিন সোলতানার সঙ্গে সোলাইমানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিক চললেও পরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। কয়েক দফা যৌতুক দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় এবং পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকলে ভুক্তভোগী নারী যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ না করে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে আদালত।

এদিকে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আসামির ভাই আবদুল মান্নান বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী জিয়াসমিন সোলতানা বলেন, “স্বামী আমাকে দীর্ঘদিন এড়িয়ে চলেছে। ভরণপোষণ না দিয়ে উল্টো যৌতুক দাবি করে নির্যাতন করত। বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। এখন সে পলাতক রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে সবার সহযোগিতা চাই।”