নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন;
দেশজুড়ে শিশু ও নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “শিশু ও নারীর নিরাপত্তা চাই, ধর্ষক-নিপীড়কের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই”— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৪টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রথম আলো বন্ধুসভার আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বন্ধুসভার সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী এবং সচেতন নাগরিকরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা “ধর্ষকের বিচার চাই”, “নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ কর”, “নিরাপদ বাংলাদেশ চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে অধ্যয়ন কোচিং সেন্টারের পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, “সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অনিয়ন্ত্রিত মাদকচক্র ও মাদকসেবন, এবং আইনের ধীরগতির কারণে অপরাধীরা বারবার অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে। শিশু ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
প্রথম আলো বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক উলফাতুল মোস্তফা রানা বলেন, “আজ আমরা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আসিনি। আমরা এসেছি আমাদের মা-বোন ও শিশুদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের পক্ষে কথা বলতে। প্রতিটি ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
ইয়ুথ অ্যাকশন ফর রাইটস অ্যান্ড জাস্টিসের প্রতিষ্ঠাতা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “একটি সভ্য রাষ্ট্রে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু প্রতিনিয়ত যেভাবে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, তা আমাদের সবাইকে উদ্বিগ্ন করছে। শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিটি ছোট ঘটনাও কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।”
প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি আব্দুল নবী বলেন, “সামাজিক অবক্ষয়, মাদক এবং অনলাইনে নেতিবাচক কনটেন্ট তরুণদের বিপথে পরিচালিত করছে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রথম আলো বন্ধুসভার সহ-সভাপতি নুরুল আবছার বলেন, “ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক সংকট। শিশু ও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনের সঠিক প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।” এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “জাস্টিস ফর রামিসা” স্লোগান দিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
