সংবাদদাতা:

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ তাদের বিভিন্ন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাজ্জাদ। সম্প্রতি তিনি আবার প্রকাশ্যে এসেছেন এবং তার চলাফেরা বেড়েছে। সরকারবিরোধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন লেখালেখি ও কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এমন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা জি.আর-৬৬৫/২০২৪ (কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-৩০) মামলার ৬৪ নম্বর আসামি সাজ্জাদ বলে জানা গেছে। তবে তিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি। এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জি.আর-৬৬৫/২০২৪, কক্সবাজার সদর থানার মামলা নং-৩০, তারিখ ১০ অক্টোবর ২০২৪, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী-২০০৩) এবং পেনাল কোড ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় সাহাদাত হোসেন প্রকাশ সাজ্জাদ ৬৪ নম্বর আসামি। এছাড়া সদর থানার মামলা নং-১০/২৫-এর ৩ নম্বর আসামি হিসেবেও তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

পাহাড়তলী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, সাজ্জাদের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট রয়েছে। তাদের সদস্যদের মধ্যে আবদুল গাফ্ফার, মো. ইউনুছ, আরিফ উল্লাহসহ অন্তত ২০ জন রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দস্যুতা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, অসহায় মানুষের জমি দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

অপহরণ মামলায় মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জামিনে বেরিয়ে সাজ্জাদ সিন্ডিকেটের সদস্য জাফর মিস্ত্রী মুন্না ও মোহাম্মদ শফিসহ কয়েকজন পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, সাজ্জাদ গং সমুদ্রপথে ফিশিং বোটের মাধ্যমে ইয়াবার বড় বড় চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে তারা প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের মতে, সাজ্জাদকে নজরদারির আওতায় আনলে তার কথিত মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

একটি সূত্রে জানা গেছে, শহরের তারাবনিয়ারছড়া জামে মসজিদের দক্ষিণ পাশের একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া “শেখ হাসিনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও উপদেষ্টাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হবে” — এমন প্রচারণা চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাজ্জাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে ছাড় দেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।