সিবিএন ডেস্ক;

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সেজেছে সৈকত নগরী কক্সবাজার। হোটেল-মোটেলে প্রত্যাশিত বুকিং না থাকলেও পর্যটকদের জন্য নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। সমুদ্রসৈকতের বালুচরেও বসছে বৈশাখি উৎসব। এদিকে, ট্যুরিস্ট পুলিশের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সৈকতপাড়ের তারকামানের হোটেলগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। বৈশাখ উপলক্ষে আলপনায় রঙিন হয়ে উঠেছে হোটেল প্রাঙ্গণ, শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠছে নববর্ষের আবহ।

হোটেল ওশান প্যারাডাইসের মিশু জানান, ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার পাশাপাশি এবার রয়েছে বিশেষ বুফে লাঞ্চ (১,৭৯৯ টাকা)। আগের বছরগুলোতে কিছু আয়োজন শুধু ইন-হাউস অতিথিদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বুফে লাঞ্চ উপভোগকারীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। পুরো আয়োজনটি পহেলা বৈশাখসহ টানা তিন দিন চলবে।

শুধু হোটেলেই নয়, সমুদ্রসৈকতের বালুচরেও বসছে বৈশাখি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে মুখর হয়ে উঠছে পুরো সৈকত এলাকা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, নববর্ষ ঘিরে পর্যটকের আগমন বাড়বে এবং চাঙা হবে পর্যটন খাত।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মুকিম খান বলেন, বাংলা নববর্ষকে ঘিরে কক্সবাজারে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সৈকত এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা, যাতে ভ্রমণকারীরা নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জাহিদ হোসেন বলেন, পহেলা বৈশাখে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পর্যটক সমাগম হয়। তাই সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী সমুদ্রসৈকতে মূল টিম মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ইনানিসহ অন্যান্য স্পটেও দায়িত্ব পালন করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

তিনি আরও জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় তিন দিন ২৪ ঘণ্টা দুই শিফটে মোবাইল ও হোন্ডা টিম টহল দেবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো সমস্যায় কক্সবাজার কন্ট্রোল রুমে (০১৩২০-১৬০০০০) যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্ণিল আয়োজন ও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সংশ্লিষ্টদের আশা, উৎসবমুখর এই পরিবেশে প্রাণ ফিরে পাবে পর্যটন খাত।