কানাডা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং টেকসই রান্নার জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) নতুন এ সহায়তার ঘোষণা দেয় দেশটি।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম)-এর মাধ্যমে দেওয়া এই অর্থ রোহিঙ্গাদের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। এটি তাদের রান্নার জন্য অপরিহার্য এবং একই সঙ্গে ক্যাম্পের আশপাশের নাজুক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদা উন্নত করতে সহায়তা করবে এই উদ্যোগ।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা দীর্ঘমেয়াদী ও অবিচল অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু-সচেতন এই মানবিক সহায়তা পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলায় বন উজাড় ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপকারে আসবে এবং জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের ঝুঁকি কমিয়ে বিশেষত নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বাড়াবে।

তিনি আরও জানান, ইউএনএইচসিআর ও আইওএম-কে দেওয়া এই ১ কোটি ডলার সহায়তা পরিবেশ সুরক্ষা জোরদার করবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। কক্সবাজার দেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, যেখানে বন্যা, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের ঝুঁকি রয়েছে। এলপিজি বিতরণ শুরুর পর থেকে শরণার্থী পরিবারগুলোর মধ্যে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৮০ শতাংশ কমেছে এবং বছরে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, গত নয় বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিশ্বের অন্যতম কঠিন বাস্তুচ্যুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কানাডার এই সহায়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং প্রশংসনীয়। শরণার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সংহতি বজায় রাখা জরুরি।

বাংলাদেশে আইওএম-এর চিফ অব মিশন (অন্তর্বর্তীকালীন) জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি দীর্ঘদিন কষ্টে থাকা পরিবারগুলোর কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার এই সহায়তা শরণার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ থেকে বিরত রাখবে এবং তাদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

২০১৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় এলপিজি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বাতাসের মান উন্নত করেছে এবং রান্নার জ্বালানির খরচ কমিয়েছে। কানাডার এই অনুদান প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সহায়তা করবে।

এ উদ্যোগ ভূমিধসের ঝুঁকি কমাবে এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব হ্রাসের পাশাপাশি স্থানীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করবে।