পেকুয়া প্রতিনিধি:
দেশের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ, স্বনির্ভর ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, “আমরা এমন এক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কাজ করছি, যেখানে তরুণদের জন্য থাকবে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার সমন্বিত সুযোগ।”
রবিবার (২২ মার্চ) কক্সবাজারের পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষকদের আর্থিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। “ঋণগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যা সরাসরি তাদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে,”—উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং বিভিন্ন উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য বিভাগভিত্তিক সম্মানী ভাতা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সমাজে তাদের অবদান আরও মূল্যায়িত হচ্ছে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর আমিরুল মোস্তফা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাব্বির ইকবাল সুমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি মশিউর মৌলা, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অ্যালামনাই কার্যক্রম শুধু প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করে না, বরং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা পেকুয়া সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশনের অগ্রগতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবলা বিশ্বাস ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোছলেহ উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ডা. মুজিবুর রহমান।
আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার পরিবেশন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে চট্টগ্রাম থেকে আগত শিল্পীসহ স্থানীয় ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। এতে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৪২ ইঞ্চি স্মার্ট টিভি জেতেন ১৯৮৬ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আকলিমা ফেরদৌসী পলি। দ্বিতীয় পুরস্কার পান পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম এবং তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করেন ১৯৯৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাংবাদিক মো. ফারুক। ৪র্থ পুরষ্কার বিজয়ী হয়েছেন ১৯৯২ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবলা বিশ্বাস, ৫ম পুরষ্কারসহ মোট ৫টি (সর্বোচ্চ) পুরষ্কার বিজয়ী হয়েছেন ১৯৮৮ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের সহধর্মিণী মাহাবুবা সুলতানা শিউলি। এছাড়া আরও কয়েকজন বিজয়ীকে বিভিন্ন পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানটি প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করে এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
