নিজস্ব প্রতিবেদক:
খোলা ময়দানে মাটিতে ত্রিপল বিছিয়ে দুই হাজারের বেশি মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে কক্সবাজার জেলা বিএনপি। যখন অনেকেই অভিজাত হোটেলে ইফতার আয়োজন করছে, তখন জেলা বিএনপি সেই আয়োজনকে সাধারণ মানুষের কাতারে নিয়ে এসে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এই আয়োজনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হাজারো সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার শহরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠ (গোল চত্বর) এলাকায় এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দেশনেত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। এতে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজারে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো প্রতিহিংসা বা বিদ্বেষ থাকবে না। সবাই মিলেমিশে কক্সবাজারকে উন্নত ও শান্তিপূর্ণ জেলায় পরিণত করতে হবে।
তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না যাতে সাধারণ মানুষ কষ্ট পায় বা বিএনপির প্রতি মানুষের মনে বিরূপ ধারণা জন্মায়।
তিনি সকল রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের কক্সবাজার ও দেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব অধ্যাপক ওমর ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক চকোরী এবং কক্সবাজার পৌর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল হুদা চৌধুরী প্রমুখ।

মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের জেলা সভাপতি মাওলানা আলী হাসান চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক অধ্যক্ষ আকতার চৌধুরী ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম মোকতার আহমেদ।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী জানান, বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এভাবে খোলা মাঠে সাধারণ আয়োজনের মাধ্যমে ইফতার মাহফিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
