নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ‘অর্থ যোগানদাতা’ শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

৭ মার্চ রাতে সদর মডেল থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে।

শাহজাহান ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মাইজপাড়ার মৃত আস্কার আলীর ছেলে।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সদরের চৌফলদন্ডীতে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরকার বিরোধী নানা স্লোগান ও ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামি তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানকারী পুলিশ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত ৩৮/৭২০ নং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে ‘আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলা আছে কিনা দেখা হচ্ছে।

শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করা ওই মামলায় তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের ৩৩ জন নেতাকর্মী আসামি রয়েছে। সদর মডেল থানার এএসআই খোকন বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ক্ষমতা অপব্যবহার করে অপরাধকর্ম চালিয়ে যায় শাহজাহান। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকান্ডসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগে টেকনাফ ও পেকুয়া থানাসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় ডজন মামলা রয়েছে।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে নানামুখী অপতৎপরতা চালায় আওয়ামী লীগ। বিভিন্ন এলাকায় ঘাপটি মেরে থাকা দলটির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে বারবার। দলগতভাবে অপরাধে জড়িত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপক্ষের শক্তিরা। এক্ষেত্রে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি সবার।

সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমি উদ্দিন জানান, গত বছরের একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি শাহজাহানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।