মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

লিগ্যাল এইড এর কার্যক্রম কক্সবাজারের প্রান্তিক পর্যায়ে আরো ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যাতে গরীব, অসহায়, অস্বচ্ছল, নির্যাতিতা মহিলা, বিধবা, প্রতিবন্ধী, অবস্থাপন্ন, তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক ও বিচারপ্রার্থীরা সহজে এর সুফল পেতে পারে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক সভায় কমিটির চেয়ারম্যান ও কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মো: আবদুর রহিম সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন। জেলা জজ কার্যালয়ের সম্মেলেন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরো বলেন, অলটারনেটিভ ডিসপুট রেজুলেশন (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি – এডিআর) মামলার জট কমাতে সহায়ক পদ্ধতি হিসাবে খুব কার্যকর একটি পন্থা। জেলা ও দায়রা জজ মো: আবদুর রহিম আরো বলেন, কক্সবাজারে আগে থেকে লিগ্যাল এইড এর কার্যক্রম অত্যন্ত সন্তোষজনকভাবে কার্যকর ছিলো। এ কার্যক্রমকে তৃনমূল পর্যায়ে মানুষের দ্বোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কক্সবাজার বিচার বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। এজন্য তিনি আইনজীবী, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ অভিজিৎ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো: আবু হানিফ, কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী, সিভিল জজ রুহুল আমিন, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ছৈয়দ আলম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাওহীদুল আনোয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: সামীম কবির, জেল সুপার মো: জাবেদ মেহেদী, অ্যাডভোকেট মো: তৌহিদুল এহেছান প্রমুখ।

সভায় কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো: আবু হানিফ বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রম বিচার বিভাগের এক অনবদ্য সৃষ্টি। এ কার্যক্রমকে যত বেশি সম্প্রসারণ করা যাবে, বিচারপ্রার্থীরা তত বেশি উপকৃত হবে।

কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সারা বাংলাদেশে বহুতল সুরম্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন থাকলেও কক্সবাজারে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর নিজস্ব কোন ভবন না থাকায় অত্যন্ত কষ্ট করে বিচারকার্য পরিচালনা করতে হচ্ছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর অবকাঠামোগত সংকটের কারণে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এজন্য কক্সবাজারে সিজিএম ভবন নির্মাণে সংকট কাটাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

সভায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী কক্সবাজার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাসিক প্রতিবেদন সহ সার্বিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা আইআরসি তাদের লিগ্যাল এইড সাপোর্ট এর বিষয়ে এবং বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক মানবপাচার বিষয়ে সভায় পৃথক ২টি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন। সভায় জিপি অ্যাডভোকেট শামসুল হুদা, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির প্যানেল আইনজীবী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত ছিলেন।