অনুমোদন জটিলতা কাটিয়ে সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেই পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা দেখা গেছে। শুক্রবারে (৬ নভেম্বর) কক্সবাজার থেকে ৩টি জাহাজ ১ হাজার ৬১২ জন পর্যটক নিয়ে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
প্রশাসন ও পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনে কেবল একটি জাহাজ চললেও দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে এমভি বারো আউলিয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো যুক্ত হয় এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। সকালের দিকে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে তিনটি জাহাজই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রা শুরু করে এবং দুপুরের মধ্যে পর্যটকদের দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মৌসুমের প্রথম দিনে ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে এমভি বারো আউলিয়া সেন্টমার্টিন গিয়ে রাতে ফিরে আসে। বর্তমানে এমভি বারো আউলিয়ার যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলীর ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
কক্সবাজার পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, যথাযথ নিয়ম মেনে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই সময়ে ভ্রমণকারীদের বাধ্যতামূলকভাবে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়া দ্বীপে প্রবেশের আগে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হচ্ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও সেখানে রাতযাপন করার সুযোগ পাবেন।
দ্বীপে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাতে সৈকত বা আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দে শব্দদূষণ করা এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রাহ ও বেচাকেনা সহ সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক-ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস বা শৈবাল নষ্ট ও সংগ্রহের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।
দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ বাসিন্দারা। এতে দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে গতি ফেরার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান সম্প্রসারিত হবে।
