মো. নুরুল করিম আরমান, লামা (বান্দরবান)
দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় ইসলামের শান্তি আলো ছড়াচ্ছেন তরুণ মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী। তিনি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পেশ ইমাম। মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্ভোধনের পর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটি ও বিচারকদের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী ইমাম পদে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর থেকে প্রথাগত ধর্মীয় পাঠদানের পাশাপাশি তরুণ সমাজকে সুপথে পরিচালিত করাসহ বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তিনি। এ কারণে তিনি ইতোমধ্যে প্রশংসাও কুড়িয়েছেন।
এর আগে মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী সাভারের জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া ও লক্ষীপুর সদরের আল আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রসা’র শিক্ষা সচিব, ময়মনসিংহ’র গফরগাঁও এর জামিয়া দারুস সুন্নাহ’র পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের শীর্ষস্থানীয় কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে এই মেধাবী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী। মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী’র বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের দক্ষিণ খিলছাদক গ্রামে। তার বাবার নাম আব্বাস আহমদ। চার ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি সপ্তম। তার পরিবারের সব সদস্যই ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দাওরায়ে হাদিসে চট্টগ্রামের বিখ্যাত জামিয়া জিরি থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্টার মার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ হন মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী। তিনি রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ থেকে উচ্চতর হাদিস গবেষণায় স্টার মার্কসহ বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করেন। একই গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও তিনি ফতোয়া ও ইসলামী আইনে স্টার মার্কসহ বিশেষায়িত ডিগ্রি লাভ করেছেন। এ ছাড়া জামিয়া জিরি, পটিয়া থেকে কিরাআতে মুজাওয়াদ কোর্সে স্টার মার্ক ও ইসলামি অর্থনীতিতে তিনি বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন।
ইসলামি শিক্ষাঙ্গনে তাঁর রচিত ও গবেষণামূলক একাধিক বই ও থিসিস ইতোমধ্যে সুধী মহলে সমাদৃত হয়েছে। তার লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো- আহকামুল ফারায়েজ: ইসলামি উত্তরাধিকার আইন ও সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত। শিরকায়ে বাতেলা: ব্যবসায়িক অবৈধ চুক্তি ও সমকালীন অর্থনীতিবিষয়ক। সালাতুল হানাফিয়া: হানাফি মাজহাবের আলোকে সালাতের দলিলভিত্তিক বিশ্লেষণ।
মডেল মসজিদে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা, নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন। তিনি বলেন. তরুণরা যাতে কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, সে বিষয়ে মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী নিয়মিত খুতবা ও সামাজিক আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর তথ্যবহুল তাফসির আলোচনা, শ্রুতিমধুর উপস্থাপনা এবং সুললিত কণ্ঠে নামাজে কোরআন তিলাওয়াত মুসল্লিদের মুগ্ধ করে।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি সাহেদ উদ্দিন, মো. শাহীন আলম ও শাহারাজসহ অনেকে জানান, মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী নিয়মিত আলোচনা ও তিলাওয়াত শুনে অনেকে মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায়ে আগ্রহী হচ্ছেন। সবার সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল মুখে সালাম-কালাম ও আন্তরিক আলাপ-আলোচনার কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। এ ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ে অনেক প্রশান্তি অনুভব হয়।
এ বিষয়ে মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী বলেন, ‘ইসলামের শান্তির বাণী মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া, ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা, মাদকমুক্ত সমাজ ও দারিদ্রতা দূরীকরনে আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মাত্র। মানব কল্যাণে এ চেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী’র ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের এই প্রচেষ্টা লামা অঞ্চলে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, নৈতিক উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানায় পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুদ্দিনসহ মডেল মসজিদ পরিচালানা কমিটির সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম।
পাহাড়ে শান্তির আলো ছড়াচ্ছেন মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ সাদেকী
পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে
