সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম

বিদ্যালয়ে ছুটি, তবু থেমে নেই পাঠদান। পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি পূরণ এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা কমাতে ছুটির দিনেও বিশেষ ক্লাস পরিচালনা করছেন বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের মংচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে। পড়াশোনায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের অতিরিক্ত পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত পাঠদানের বাইরে এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি পূরণ এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছারের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মংচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে দুর্গম এলাকার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক অসচ্ছলতা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ছুটিতে যাতে তাদের নিয়মিত পড়াশোনার চর্চা ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ছুটির দিনেও বিশেষ পাঠদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা কমানোর চেষ্টা চলছে। পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়তি সময় দিয়ে পাঠ বুঝিয়ে দেওয়ায় তারা শ্রেণিকক্ষের পড়া আরও ভালোভাবে আয়ত্ত করার সুযোগ পাচ্ছে।”

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের এমন উদ্যোগের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা, শিক্ষা প্রশাসনের সহযোগিতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততাও জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা সম্ভব।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “ছুটির দিনেও শিক্ষকেরা শিশুদের পড়াশোনার জন্য সময় দিচ্ছেন, এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের বিষয়। দুর্গম এলাকায় অনেক শিক্ষার্থী নানা কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে তারা পড়া বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার প্রবণতাও কমবে বলে আমরা আশা করি। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়ার মান আরও উন্নত হবে।”