টেকনাফ প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মায়ানমারের রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিচালিত কোডেক – ইউনিসেফ শিক্ষা প্রকল্পের আওতাধীন কর্মরত এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাঁরই সুপারভাইজার ও ফিল্ড অফিসারের বিরুদ্ধে।এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট সজীব উল্লাহ চৌধুরীর কানে গুরুতর আঘাত ও রক্তপাত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এ ঘটনায় গত ১৭ অক্টোবর টেকনাফ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি নম্বর ৯৭৬।

ভুক্তভোগী সজীব উল্লাহ চৌধুরী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা কোডেকের (CODEC) অধীনে ক্যাম্প-২৫-এ ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত।

সজীব উল্লাহ চৌধুরীর অভিযোগ, গত ১১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:০০’টার দিকে টেকনাফের লেদা এলাকায় মৌলভী ম্যানশনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত কোডেক-ইউনিসেফ শিক্ষা প্রকল্পের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিস কক্ষে তাঁর সুপারভাইজার ও ফিল্ড অফিসার- ঈমান হোসাইন তাঁকে অন্যান্য সহকর্মীদের উপস্থিতিতে মারধর করেন বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের পর তাঁর কান থেকে রক্তপাত শুরু হয় এবং তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখান থেকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

তবে কান থেকে রক্তপাত অব্যাহত থাকায় তাঁকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ড্রেসিং করা হয় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তীব্র ব্যথার কারণে তিনি কক্সবাজারের ইউনিয়ন হাসপাতালে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. নজরুল ইসলামের পরামর্শ নেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক কানের ভেতরে আঘাতজনিত ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে, সংশ্লিষ্ট ফিল্ড অফিসার কখনো শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের যুবদল নেতা, আবার কখনো কৃষক দলের সভাপতি দাবি করে নিজেকে বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করেন এবং কর্মক্ষেত্রের পদমর্যাদা ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলার বাহির থেকে আসা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর বিভিন্ন সময়ে মানসিক চাপ ও নির্যাতন চালান।
ভুক্তভোগী আরো অভিযোগ করেন যে,ঈমান হোসাইন তার উপর শারীরিক হামলার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

এই ঘটনায় কর্মক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে কোডেকের নির্বাহী পরিচালক এবং উখিয়া ও কক্সবাজারে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ফিল্ড অফিসার ঈমান হোসাইন বলেন, আমি তাকে মারধর করিনি। শুধু মাত্র বাক বিতণ্ডা হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় কোডেক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। বর্তমানে অভিযোগের বিষয়টি টেকনাফ থানায় পুলিশের তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।গণমাধ্যমের কর্মীরা ভুক্তভোগীর সাথে যোগাযোগ করলে,বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।