মোঃ ফারুক, পেকুয়া:

দীর্ঘদিনের ভোগান্তি আর ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের অবসানের আশায় নতুন স্বপ্ন দেখছেন পেকুয়া-কুতুবদিয়ার মানুষ। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাট পারাপার হওয়া যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরাতন জেটিঘাট সংস্কারের পাশাপাশি নতুন একটি আধুনিক জেটিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ও দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার মানুষের নৌ যোগাযোগে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের তদারকিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে নতুন জেটিঘাট নির্মাণের জন্য এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন জেটিঘাটটি মগনামা বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মুখে বেড়িবাঁধের অংশে নির্মাণ করা হবে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা পুরাতন মগনামা জেটিঘাট সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ সংস্কারকাজে আনুমানিক ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, ২০০৫ সালে কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজারের সঙ্গে নৌ যোগাযোগ সহজ করতে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মগনামা জেটিঘাট নির্মাণ করা হয়। পরে এটি জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ২০১৮ সাল থেকে জেটিঘাটটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। রেলিংসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতকারী যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

স্থানীয়রা জানান, মগনামা জেটিঘাট শুধু একটি ঘাট নয়, এটি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম মাধ্যম। অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। নতুন ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

মগনামা লঞ্চঘাটের ইজারাদার ও মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, মগনামা লঞ্চঘাট পেকুয়া-কুতুবদিয়ার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের নানা দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পুরাতন জেটিঘাট সংস্কারের পাশাপাশি নতুন জেটিঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় উপকূলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি উপকূলবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করি, দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু হলে হাজারো মানুষের নৌযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

পেকুয়া এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, নতুন জেটিঘাট নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ যাত্রী চলাচল, উন্নত যাত্রীসেবা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পুরাতন জেটিঘাট সংস্কার ও নতুন জেটিঘাট নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পেকুয়া-কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।