নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং খারাইংগাঘোনা সীমান্ত যেন দিনদিন পরিণত হচ্ছে মাদকের অভয়ারণ্যে। সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি পথ, গভীর অরণ্য আর নাফ নদীর অচেনা রুট ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত দেশে ঢুকছে ভয়ংকর মাদক ইয়াবা। আর এই অবৈধ বাণিজ্যকে ঘিরে স্থানীয়দের মুখে এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে দুই সহোদর ভাই লুৎফুর রহমান ও ফায়সালের নাম।তার পিতা হোসেন আহমদ একজন রোহিঙ্গা নাগরিক হওয়ার স্বত্বেও হোয়াইক্যং ২ নং ওয়ার্ডের খারাইংগাঘোনা এলাকার বাসিন্দা পরিচয়ে থাকছেন বছরের পর বছর।

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করে তারা বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, লুৎফুর রহমান বর্তমানে ইয়াবা মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী।এছাড়াও খারাইংগাঘোনা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে গভীর রাতে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় বড় চালান লুৎফুর রহমান ও ফায়সালের নেতৃত্বে দেশে প্রবেশ করছে। সীমান্তের প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সংঘবদ্ধ সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা। আর এই সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন তারা দুই ভাই।

জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে প্রায় দুই লক্ষ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা তাদের দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লুৎফুর রহমান ইয়াবা বহনকারী কয়েকজন রোহিঙ্গা যুবককে অপহরণ করে হাতের আঙ্গুল কেটে নেয়।শুধু তাই নয় তারা দিন দিন অপহরণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

“রাত হলেই সীমান্ত এলাকায় অচেনা মানুষের আনাগোনা বাড়ে। পাহাড়ি পথ দিয়ে বস্তাভর্তি ইয়াবা আনা হয়। সবাই জানে কারা এসব করছে, কিন্তু তাদের দুই ভাইয়ের ভয় আর আতঙ্কে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”

জানা যায়, ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে অল্প সময়েই বদলে গেছে দুই ভাইয়ের জীবনযাত্রা। কয়েক মাস আগেও যাদের ছিল সাধারণ জীবন,খারাইংগাঘোনা এলাকায় এখন তারা করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। শহরে কিনেছেন একাধিক জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সীমান্ত এলাকায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব প্রভাব বলয়।

এ বিষয়ে টেকনাফের সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সীমান্তে ইয়াবা কারবার বন্ধে শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি ও দুর্নীতিমুক্ত কঠোর পদক্ষেপ। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী যুবসমাজের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে মাদক সিন্ডিকেট আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—অভিযান ও ধরপাকড়ের ঘোষণার পরও কেন থামছে না ইয়াবা বাণিজ্য? কীভাবে দুই মাসে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে উঠছে মাদক কারবারিরা? সীমান্তে কারা দিচ্ছে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়?

খারাইংগাঘোনা সীমান্তের সাধারণ মানুষ এখন একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—মাদকের এই অন্ধকার সাম্রাজ্য কবে ভাঙবে? আর কবে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে সীমান্তবাসী?