পেকুয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণার খবরে পুরো এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে রোববার (২৪ মে) বিকেলে উপজেলা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল ও শোকরানা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিকেল ৪টায় শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠ থেকে আনন্দ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি কলেজ গেইট চৌমুহনী, প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে পেকুয়া বাজারের পশ্চিম পাশের ওয়াপদা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, তরুণ সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করে পৌরসভা ঘোষণাকে স্বাগত জানান এবং উন্নয়নমুখী নানা স্লোগান দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে পৌরসভা গঠনের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। অবশেষে সরকারের ঘোষণায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
পরে ওয়াপদা চত্বরে অনুষ্ঠিত শোকরানা সভায় পেকুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো. সফওয়ানুল করিম বলেন, পেকুয়াকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা এ অঞ্চলের মানুষের বহু বছরের স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি ছিল। এ ঘোষণার ফলে পেকুয়ার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, “পৌরসভা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
সভায় বক্তারা বলেন, পেকুয়া ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। পৌরসভা গঠনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে। তারা নতুন পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব নগরীতে রূপ দিতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বক্তারা পেকুয়ার উন্নয়নে অবদান রাখা সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পৌরসভা বাস্তবায়নের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।
শোকরানা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
