মাহবুব সিফাত, সিবিএন

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে একই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৩৭টি শিশু ভর্তি রয়েছে, যার মধ্যে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১১ জন।

হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, মারা যাওয়া শিশুটি হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়াসহ একাধিক জটিলতায় ভুগছিল। তিনি বলেন, “শিশুটি আগে থেকেই অপুষ্টিতে ছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচাতে পারিনি।”

এ বিষয়ে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও পরে জানান, শিশুটি একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিল এবং চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে শিশুটির পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি।

জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ ছোঁয়াচে এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা সেলিম উল্লাহ জানান, বর্তমানে মোট ৩৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। এ পর্যন্ত ১১৯ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে ৮২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। ডা. শহিদুল আলম জানান, “হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, নার্স ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন কয়েকগুণ রোগী বাড়ায় চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতাল-এও হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালটির সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ জানান, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে শিশু ভর্তি শুরু হয়ে তা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে ৫ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, মিঠাছড়িসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, হামের টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজে দেওয়া হয় এবং জেলায় প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় রয়েছে। টিকার পর্যাপ্ত মজুদও আছে বলে জানান তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন-এ এর অভাব ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে হাম ছড়িয়ে পড়তে পারে। তারা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।