বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এ পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২১টি দল।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি বাড়তে থাকায় অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধারে কোনো ধরনের বিলম্ব সহ্য করা হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার সকাল সাড়ে ৫টার বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্বমধ্য ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় অর্ণবে পরিণত হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতের মধ্যে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় এবং মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার সকাল নাগাদ বাপাটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনগুলোকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু, নিয়মিত জনসাধারণকে সতর্কবার্তা দেওয়া এবং জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম সমন্বয়ের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি চার ঘণ্টা পরপর ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতির বুলেটিন প্রকাশ করতেও বলেছেন তিনি।
উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং সব মাছ ধরার নৌকা তীরে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের আগেভাগে হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১০টি এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর ১১টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে ২৭ ও ২৮ অক্টোবর উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মধ্য উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোনো কোনো এলাকায় অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিদ্যুৎ বিভাগকেও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ না করতে এবং জরুরি প্রয়োজনে ১৯১২ নম্বরে যোগাযোগ করতে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে বিদ্যুৎ করপোরেশন।
