নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরে পার্লার ব্যবসার নামে সাধারণ নারীদের সাথে অরাজকতা করছে ফাল্গুনী মেকওভার স্টুডিও এন্ড হেয়ার সেলুন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই পার্লারে নিম্নমানের মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার ও অদক্ষ কর্মী দিয়ে মেয়েদের মেকআপ করিয়ে গলাকাটা ব্যবসা করে যাচ্ছে। কোন গ্রাহক এসব বিষয়ে অভিযোগ দিলে তাদের সাথেও আশালীন ব্যবহার করা হয়। এ বিষয়ে কথা বললে পার্লারটির পার্টনার সোমা আকতার বলেন, কোন গ্রাহক তাদের বিরুদ্ধে খারাপ রিভিউ দিলেও তাদের কিছু আসে যায় না। বরং যে গ্রাহক অভিযোগ তুলবেন তার বিরুদ্ধেই সামাজিকমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে বলে হুমকি দেন।
এসব বিষয় তুলে ধরে এক গ্রাহক পার্লারটির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সিরাজুম মুনিরা নামের এক গ্রাহকের অভিযোগ, তিনি গত ৪ সেপ্টেম্বর ফাল্গুনী মেকওভার নামের পার্লারটিতে মুখের সাজের জন্য গিয়েছিলেন। ১০০০ টাকা দামে তাকে পার্টি মেকআপ দেয়া হয়। কিন্তু মেকআপ নিয়ে বের হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই তার চেহেরা সুন্দর হওয়ার পরিবর্তে কালো হয়ে যায়।
তিনি দাবি করেন, ওই সাজ নিয়ে নিজেদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর সবার কাছে মেকআপ নিয়ে তিরস্কৃত হন।
ওই নারী অভিযোগ তুলেন, ফাল্গুনী মেকওভারের আর্টিস্টরা খুবই অদক্ষ এবং তাদের মেকআপ নিয়ে তেমন কোন অভিজ্ঞতাই নাই। তাছাড়াও তারা অত্যন্ত নিম্নমানের মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করছেন। যার কারণে তার নিজের মুখের মেকআপ অল্প সময়ের মধ্যে কালো হয়ে গেছে বলেও দাবি তার।
তিনি বলেন, ওই অবস্থায় আমাকে অনুষ্ঠান থেকে আবার বাড়ি ফিরে এসে নতুন সাজ নিয়ে অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ওই গ্রাহক দাবি করেন, পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিষয়টি জানাতে তিনি ফাল্গুনী মেকওভারে গিয়েছিলেন। ওই সময় পার্লারটির পার্টনার সোমা আকতার ছিলেন না। পার্লারের মেয়েরা তাদের মোবাইলে তার সাথে কথা বলিয়ে দেন। বিষয়টি জানানোর পর তিনি কোন ধরণের শান্তনামূলক কথা বলে উল্টো তাকে তিরস্কার করা শুরু করেন।
তিনি বলেন, আমাকে মেকআপ করেছেন সোমা আকতার নিজে, কিন্তু তিনি উল্টো আমাকেই মেকআপ ধরে রাখতে না পারার দোষারোপ করতে থাকেন। এক সময় আমাকে তাদের পার্লারের যোগ্য নয় বলে অশালীন ভাবে খারাপ ব্যবহার করেন। এমন কী আমি ৩০০ টাকা পার্লারের যোগ্য বলে অপমানিত করেন।
সিরাজুম মুনিরা দাবি করেন, কোন পার্লারে কয়েকশ টাকার সাজ নিলেও সেই সাজ কয়েকঘন্টা থাকে, কিন্তু ফাল্গুনী মেকওভারে মেকআপ নিয়ে আধঘন্টাও থাকেনি। পুরো চেহেরাই ছোপ ছোপ দাগ পড়ে কালো হয়ে গিয়েছিল।
তার মতে, বিউটি পার্লারটি পার্টনার সোমা আকতার নিজেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিউটিশিয়ান দাবি করলেও তার কাজে তেমন কোন অভিজ্ঞতাই নাই। তাছাড়াও পার্লারে বেশি দাম নিয়ে নিম্নমানের মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমা আকতার নামের এই নারী ব্রাম্মণবাড়িয়া থেকে এসে কয়েকমাস আগে কক্সবাজার শহরের সিটি কলেজ এলাকায় পার্লার খুলেছেন। তার সাথে পার্টনার হিসেবে আছেন নিজের বোন শান্তা। তিনি ব্রাম্মণবাড়িয়ায় থাকেন। কিছুদিন পরপর কক্সবাজারের পার্লারে আসেন।
অভিযোগ আছে, কক্সবাজার শহরের প্রভাবশালী কিছু মানুষ ও উঠতি বয়সের তরুণদের সম্পর্ক তৈরি করে সোমা আকতার সাধারণ নারী গ্রাহকদের সাথে অরাজকতা করছেন। তাদের কাছ থেকে চড়া দাম আদায় করে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে মেকআপ দিচ্ছেন। এতে কোন ধরণের সমস্যা তৈরি হলে গ্রাহকদের উল্টো হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্লারটির পার্টনার সোমা আকতার উল্টো অভিযোগ করেন, ওই গ্রাহক তাদের সাথে অশালীন ব্যবহার করেছেন।
তিনি বলেন, আমরা ওই গ্রাহককে স্কিনপয়েন্ট মেকআপ দিয়েছিলাম। ওই মেকআপ নিয়ে এসি রুমে বসে থাকতে হয়। তিনি শহর থেকে লিংক রোড এলাকায় মেকআপ নষ্ট করেছেন।
সোমা আকতার অনেকটা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ওই গ্রাহক আমাদের বিরুদ্ধে খারাপ রিভিউ দিলেও আমাদের কিছু যায়-আসে না। তিনি খারাপ রিভিউ দিলে আমরাও সামাজিকমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাবো।
এ বিষয়ে সিরাজুম মুনিরা নামের ওই নারী ফাল্গুনী মেকওভার স্টুডিও এন্ড হেয়ার সেলুন নামের ওই পার্লারের বিরুদ্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, এ ধরণের পার্লার চালু থাকলে কক্সবাজারের নারীরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হবেন।