জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ:
কক্সবাজারের টেকনাফে বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করছেন স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। বছরজুড়েই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে শত শত কোমলমতি শিশুকে। গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারাও ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁশের সেতু দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ছুটির পর স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ওই বাঁশের সেতু দিয়ে পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লেদা ও পুচিংগাপাড়া সংযোগ সড়কের মাঝখানে রয়েছে লেদা খাল। খালের ওপর নির্মিত বাঁশের তৈরি সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ। এই সেতু দিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ চলাচল করছেন।
বেশ কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার্থে লেদা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রকিম মেম্বার। সময়ের ব্যবধানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত সেই সেতুটি ভেঙে পড়ে। বর্ষার বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সেতুর ভাঙা অংশের একাংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেখানে তড়িঘড়ি করে বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সেটি দিয়েই কোনোমতে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব লেদাপাড়ার শত শত শিক্ষার্থী লেদা ইবনে আব্বাস বড় মাদরাসা, মহিলা মাদরাসা, নুরানি মাদরাসা, লেদা উচ্চ বিদ্যালয় ও লেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। এসব শিক্ষার্থী অভিভাবক কিংবা স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সেতু দিয়ে খাল পারাপার করছে।
লেদা ইবনে আব্বাস মাদরাসার শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রইস, মুহাম্মদ হোসাইন ও আব্দুর রহমান আস-সুদাইস জানান, মাদরাসায় যাওয়া-আসার সময় অভিভাবক অথবা স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সেতু পার হতে হয়। কবে এই ভয় ও ঝুঁকি থেকে মুক্তি মিলবে এবং এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হবে—সেই আশায় রয়েছে তাদের মতো শত শত শিক্ষার্থী।
স্থানীয় যুবনেতা জাগির হোসেন মনু বলেন, স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সেতু পারাপার করতে হচ্ছে। বছরে অন্তত দুইবার সেতুটি ভেঙে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বারবার তা মেরামত করতে হয়। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় কৃষক মোখতার আহমদ ও আব্দুস সালাম বলেন, পূর্ব লেদার মানুষ সেতুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নড়বড়ে হওয়ায় ভয় নিয়েই প্রতিদিন মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। তারা দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় সমাজ সর্দার নজির আহমদ জানান, পূর্ব লেদায় বড় তিনটি সমাজ রয়েছে। এসব সমাজের অধীনে প্রায় ২০০ পরিবার বসবাস করে। বিকল্প কোনো সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় লেদা খালের ওপর নির্মিত বাঁশের সেতুই এসব পরিবারের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। পূর্ব লেদার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তিনি লেদা খালের ওপর নতুন করে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
লেদা ইবনে আব্বাস বড় মাদরাসার পরিচালক ক্বারী মাওলানা শাকের আহমদ বলেন, পূর্ব লেদা ও পুচিংগাপাড়া সংযোগ সড়কের মাঝখানের সেতুটি ভেঙে যাওয়ার কয়েক বছর হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করে মানুষ চলাচল করছে। অভিভাবকদের সহযোগিতায় স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সুবিধার্থে এবং শিশুদের এই ভয় ও ঝুঁকি দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে লেদা খালের ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় মেম্বার নুরুল হুদা জানান, পূর্ব লেদা ও পুচিংগাপাড়া সংযোগ সড়কের সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব লেদার মানুষের যাতায়াতের বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় ওই এলাকার মানুষ সারা বছর ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার করছেন। তিনি বলেন, সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডি ও পিআইও অফিসে বেশ কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় কিছু মানুষের অসহযোগিতার কারণে সেতু নির্মাণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের দিয়ে সেতু নির্মাণের স্থানটি পরিদর্শন করা হবে। এরপর কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে লেদা খালের ওই স্থানে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
