নাছির উদ্দিন সোহেল, মহেশখালী;
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে পর্যটকদের ওপর আরোপিত ১০০ টাকা ঘাটভাড়া বাতিল করে ৫ টাকা নির্ধারণ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মহেশখালী জেটিঘাট চত্বরে ‘মহেশখালী নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট রুহুল আমিন।
সমাবেশে মহেশখালী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মির্জা তারেক, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল বাশার পারভেজ, সাংবাদিক জাহেদ সরওয়ার, দক্ষিণ ছাত্রসেনার নেতা আমির হোসেন, সাংবাদিক এস এম রুবেল, নুরুল আবছার ও ব্যাংকার মাহাবুব আলমসহ স্থানীয় ছাত্র-যুবসমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এ সময় জেটিঘাটে আসা কয়েকজন পর্যটকও তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এ ছাড়া সমাবেশে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট রুহুল আমিন বলেন, মহেশখালী একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন পর্যটকেরা এখানে আসেন। নৌপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাটভাড়া আরোপ করা হলে পর্যটকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে। এর ফলে পর্যটনের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য ১০০ টাকা ঘাটভাড়া নির্ধারণকে তিনি অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত ফি আরোপের ফলে মহেশখালীর পর্যটন সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মহেশখালী উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মির্জা তারেক বলেন, মহেশখালীর সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন সময় সমাধানের কথা বলা হলেও সমন্বয়হীনতার কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ঘাটের স্টেকহোল্ডার ও নীতিনির্ধারকদের সবাইকে একসঙ্গে বসে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সাংবাদিক এস এম রুবেল বলেন, মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথ শুধু পর্যটকদের জন্য নয়, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিভিন্ন সময় ঘাটের অনিয়মের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলেও তিনি ‘এটি বিআইডব্লিউটিএর ঘাট’ বলে দায় এড়িয়ে যান। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ নৌপথ ব্যবহার করেন। তাই নৌযাতায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সমাবেশে বক্তারা ঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ঘাটভাড়া নির্ধারণের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
মহেশখালী ভ্রমণে আসা এক পর্যটক বলেন, ‘বোট ভাড়ার চেয়ে প্রবেশ ফি বেশি নেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রায়ই মহেশখালীতে ঘুরতে আসি—মন্দির, পাহাড় ও শুঁটকি পল্লী দেখতে। কিন্তু এবার বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির শিকার হয়েছি। এখানে বিভিন্ন পর্যায়ে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে মনে হয়েছে।’
সমাবেশ থেকে বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নৌযাত্রী ও পর্যটকদের ভোগান্তি নিরসন এবং মহেশখালীতে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
