সঠিক পরিকল্পনা, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কক্সবাজারকে অর্থনৈতিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার -৩ ( সদর, রামু, ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের উন্নয়নে একটি কমিটি করে দিয়েছেন, এই কমিটির কাজ হবে কক্সবাজারের উন্নয়ন ও পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেওয়া।

শুক্রবার ( ০৬ নভেম্বর ) রাত ৮টায় কক্সবাজারের একটি হোটেলে “সাউথ এশিয়ান বিজনেস পার্টনারশীপ” আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, ‘কক্সবাজারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আলাদা একটা টান আছে। যে কারনে তিনি অল্প সময়ে দুই বার এসেছে। কক্সবাজারকে নিয়ে সরকার প্রধানের বৃহৎ পরিকল্পনা আছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কক্সবাজারে ৫ শতাধিকের মত হোটেল রিসোর্ট রয়েছে। প্রতি বছর হোটেল ব্যবসায় ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। যেখান থেকে প্রতি বছর ১৮০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়। এই পর্যটন শিল্পের এখন বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসিএ আইন। পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি দূর করতে বিতর্কিত ইসিএ আইন ও ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ আইন সংশোধনের কাজ করছে সরকার। এই আইন বাতিল না হলে পর্যটন খাতে অশনিসংকেত নেমে আসবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সাগরের কোল ঘেঁষে বড়সড় হোটেল স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এগুলোর মাধ্যমে বিনিয়োগের পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে তেমনি দেশগুলোর অর্থনীতির চাকাও সচল হয়েছে। কিন্তু, আমাদের দেশে কিছু করতে গেলেই বাঁধা; বিভিন্নভাবে তারা যুক্তি উপস্থাপন করে; এ কারনে কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যা বুঝা মুশকিল।’

কক্সবাজারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘মহেশখালী মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর হচ্ছে, যেটি হবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে-ও বহুগুণ বড়; এ মাসেই চালু হবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ব্লু-ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালসহ আর-ও বহু বড় প্রকল্পে কাজ শুরু হবে। এসব কাজ শেষ হলে কক্সবাজার কোথায় গিয়ে পৌঁছবে? সেই ধারণা হয়তো কারো নেই। এজন্য কক্সবাজার ভালবাসতে হবে, নিজেদের অবস্থান থেকে সকলকে সচেতন হতে হবে। তাহলে একটি সুন্দর আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

দুর্নীতির কথা টেনে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান ও দ্রুত বর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ। জনসংখ্যার একটি বড় অংশই তরুণ, যা কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল শক্তির বড় উৎস। কিন্তু দুর্নীতির কারনে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারছিনা। আমরা বার বার পিছিয়ে পড়ছি। এই দুর্নীতি বন্ধ হলে বাংলাদেশের সাথে কেউ পেরে উঠতে পারবে না। আমরা এখন ঠিকে আছি, সেটা হচ্ছে সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অবদান রাখায় ৩০ জনকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। ###