দুই ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের হেব্রন শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে শুরু করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ভারী এক্সকাভেটর, সাঁজোয়া বুলডোজার ও ধ্বংসকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে হামলাকারীদের এলাকার একের পর এক বাড়িঘর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি হেব্রনের বাইরের একটি তল্লাশি চৌকিতে দুজন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন। পরবর্তীতে সেনাদের পাল্টা গুলিতে দুই হামলাকারীও প্রাণ হারান। ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীদের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা একটি মহাসড়কে আরও বড় হামলার ছক কষেছিল।

নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে ঘটা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামলাকারীরা যে এলাকা থেকে এসেছে, তা এস্কেভেটর ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে ধ্বংস করে সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হবে।

একই সাথে তিনি প্রায় দুই লাখ বাসিন্দার হেব্রন শহর এবং পার্শ্ববর্তী হালহুল এলাকায় কঠোর সামরিক ঘেরাও আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘটনার পর নেতানিয়াহু তার নির্ধারিত নির্বাচনী প্রচারণা সভাও বাতিল করেন।

একই সাথে ইসরায়েলি সরকারের অতি-ডানপন্থী মন্ত্রীরা পশ্চিম তীরে গাজা বা লেবাননের মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান চালানোর দাবি তুলেছেন। তবে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের পুরো পরিবার বা প্রতিবেশীদের বাড়িঘর এভাবে বুলডোজার ও এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি নীতিকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ বলে অভিহিত করেছে। বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের এই মৌসুমে এই হামলার ঘটনা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংসের অভিযান পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

 

সূত্র: বিবিসি