স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের মাঝের ঘোনা এলাকায় রিজার্ভ ভূমিতে সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে কেটে ফেলা হয়েছে প্রায় দুই যুগ আগে রোপণ করা বিশাল আকৃতির একটি জলপাই গাছ। গাছটিতে থাকা কয়েক মণ কাঁচা জলপাইও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি বনজ ও ফলজ গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঝের ঘোনা এলাকার মৃত নুর আহমদের ছেলে সামশুল আলম এবং আবদু ছালামের ছেলে সামশুল আলমের মধ্যে রিজার্ভ ভূমিতে সড়ক নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার বিরোধপূর্ণ স্থানে সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করা হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গ্রাম পুলিশসহ উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর আবদু ছালামের ছেলে সামশুল আলমের পক্ষের লোকজনসহ স্থানীয় কয়েকজন সেখানে সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় কয়েকটি বনজ ও ফলজ গাছ কাটা হয়। এসব গাছের মধ্যে প্রায় দুই যুগের পুরোনো জলপাই গাছটিও ছিল।

আবদু ছালামের ছেলে সামশুল আলমের পক্ষের দাবি, প্রায় ১৩ বছর ধরে ওই স্থান দিয়ে স্থানীয় লোকজন চলাচল করতেন। মসজিদ ও স্কুলে যাতায়াতের জন্য সেখানে একটি সড়ক প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা উদ্যোগ নেন। এতে প্রতিপক্ষ বাধা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। পরে চলাচলের পথ তৈরি করতে গিয়ে গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

অন্যদিকে, মৃত নুর আহমদের ছেলে সামশুল আলমের পক্ষের অভিযোগ, সংঘবদ্ধভাবে তাঁদের বাড়িঘরে লুটপাট চালানো হয়েছে। এ সময় তাঁদের মারধর করে কয়েকজনকে আহত করা হয় এবং বড় আকারের একাধিক বনজ ও ফলজ গাছ কেটে ফেলা হয়। তাঁদের দাবি, ২০ জনের বেশি লোকের একটি সংঘবদ্ধ দল এসব গাছ কেটে ফেলে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করেছেন।

এদিকে, প্রকাশ্যে বনজ ও ফলজ গাছ কাটার ঘটনায় বন বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বারবাকিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, “রিজার্ভ জায়গা থেকে কোনো গাছ কাটা হলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর বিরোধপূর্ণ ভূমিতে সড়ক নির্মাণ, গাছ কাটার অভিযোগ ও সংঘর্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।