পেকুয়া প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার পূর্ব গোঁয়াখালী এলাকার টেকপাড়া-বিলহাসুরা সড়কে শত বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির একাংশে ইট বিছানো থাকলেও প্রায় এক কিলোমিটার এখনো কাঁচা। বর্ষায় কাদাপানি আর গ্রীষ্মে খানাখন্দের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো মানুষ। শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়স্কদের ভোগান্তি বেশি। বারবার দাবি জানিয়েও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় সড়কটি ছিল ছোট্ট একটি আইল। পরে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মাটি দিয়ে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্ত করেন। সময়ের সঙ্গে এলাকায় শত শত বসতবাড়ি গড়ে উঠলেও সড়কটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।

খলিলুর রহমান জামে মসজিদসংলগ্ন কালভার্ট থেকে বাবুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখনো কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী। বর্ষায় কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে অনেক সময় দোলনার আশ্রয় নিতে হয়। কোনো কোনো সময় নৌকাই হয়ে ওঠে চলাচলের ভরসা।

এলাকার শতবর্ষী বাসিন্দা ফকির মুহাম্মদ বলেন, ‘আগে এখানে কয়েকটি পরিবার ছিল, এখন শত শত বসতবাড়ি হয়েছে। ছোট্ট আইলটি প্রশস্ত হলেও এখনো পাকা হয়নি। জীবনের শেষ সময়ে এসে অন্তত সড়কটি পাকা হতে দেখতে চাই।’

কলেজছাত্রী জিসান বলেন, ‘সড়কের বেশির ভাগ অংশে ইট বিছানো থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন হচ্ছে না। বর্ষায় চলাচল খুবই কষ্টকর। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণ চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফ মিয়া ও বাদশাহ বলেন, ‘বর্ষায় সড়কে পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল দশার কারণে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক বলেন, ‘পরিষদের পক্ষ থেকে ১৪টি সড়কের উন্নয়ন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বাবুলের বাড়ি থেকে খলিলুর রহমান জামে মসজিদসংলগ্ন কালভার্ট পর্যন্ত সড়কটি তিন নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হবে।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল হোছাইন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। সড়কটির অবস্থান এখনো চিনতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে সড়কটি পরিদর্শন করব।’