মাহবুব আলম মিনার:
উখিয়ার পালংখালী শফিউল্লাহ কাটা ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। স্বামী ও সন্তানদের হত্যার হুমকি দিয়ে ওই নারীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রশাসন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্তের নাম নুর মোহাম্মদ। তিনি ১৬ নম্বর ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকের বাসিন্দা। তার পিতার নাম আলী আহমেদ। এফসিএন নম্বর ২৪২৭৫৬ এবং মিয়ানমারের ঠিকানা সাইসসুরাতা। ক্যাম্পবাসীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি আরএসওর সহযোগী সংগঠন ARO-এর কমান্ডার হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় ক্যাম্পবাসীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ নভেম্বর, শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নুর মোহাম্মদ অস্ত্র নিয়ে ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নারীর স্বামীকে হত্যার হুমকি দেন তিনি। স্বামী ও সন্তানদের নিরাপদ রাখতে হলে তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতে হবে বলে চাপ প্রয়োগ করেন। অন্যথায় ওই দিনই স্বামীকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বামী ও সন্তানদের জীবন রক্ষার তাগিদে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন ওই নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি অভিযুক্তের শর্তে বাধ্য হন। পরে ছোট সন্তানদের বারান্দায় পাঠিয়ে দিয়ে নারীর অনিচ্ছা ও অসম্মতির বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ।
ঘটনার সময় ও পরবর্তী সময়ে ওই নারীর আশপাশের কয়েকজন বিষয়টি জানতে পারেন। পরে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদকে আটক করতে সক্ষম হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ক্যাম্পে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাধারণ ও নিরীহ নারীদের ওপর এ ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতন, নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ আজ নিজ জনগোষ্ঠীর মধ্যকার সশস্ত্র অপরাধী চক্রের কাছেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি ঘটনা প্রশাসন ও গণমাধ্যমের নজরে এলেও ক্যাম্পের অভ্যন্তরে এমন আরও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা ভয়ে, হুমকিতে কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে আসছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। বিশেষ করে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে মুখ খুললে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা কিংবা প্রাণনাশের আশঙ্কায় অনেক ভুক্তভোগী নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রত্যাবাসন বিলম্বিত, অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে
—নিরাপত্তা কোথায়?
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা, অপরাধ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত নিরীহ নারী, শিশু ও সাধারণ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
প্রশ্ন উঠছে—অস্ত্রধারীদের ভয়ে যদি একজন নারী নিজের ঘরেও নিরাপদ না থাকেন, স্বামী-সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে যদি তাকে যৌন সহিংসতার শিকার হতে হয়, তাহলে ক্যাম্পের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান জোরদার করা ।