স্টাফ রিপোর্টার, পেকুয়া:

চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জানতে পারেন, শরীরে একসঙ্গে পাঁচটি জটিল সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার জন্য প্রয়োজন হবে পাঁচটি অস্ত্রোপচার। চিকিৎসার খরচের কথা শুনে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান স্বামী নুরুল আবছার। তাকে জানানো হয়, অপারেশন ও চিকিৎসায় খরচ হবে দুই লাখ টাকার বেশি। অসহায় পরিবারটির পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার না করেই স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাকে।

পরে স্থানীয়দের পরামর্শে কক্সবাজারের চকরিয়া মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে যোগাযোগ করেন নুরুল আবছার। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের পর চিকিৎসক মোহাম্মদ জেনারুল ইসলাম নুরের তত্ত্বাবধানে ছালেহা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক নুর একসঙ্গে পাঁচটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।

চিকিৎসা শেষে বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ ও স্বস্তিতে আছেন মাতামুহুরী উপজেলার ঈদমনির বাসিন্দা নুরুল আবছারের স্ত্রী ছালেহা বেগম।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ছালেহা বেগমের শরীরে টিউমার, পিত্তথলিতে পাথর, জরায়ুতে টিউমার, হার্নিয়া ও কিডনিতে পানি জমার সমস্যা ছিল। একসঙ্গে এসব জটিলতার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারটিতে।

ছালেহা বেগম বলেন, “চট্টগ্রামে চিকিৎসার জন্য অনেক বেশি টাকা চাওয়া হয়েছিল। আমাদের পক্ষে সেই টাকা জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। পরে মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে এসে একসঙ্গে পাঁচটি অপারেশন হয়েছে। মহান আল্লাহর রহমতে এবং চিকিৎসকের দক্ষতায় এখন আমি অনেক ভালো আছি। হাসপাতালের সেবাতেও আমি সন্তুষ্ট।”

তার স্বামী নুরুল আবছার বলেন, “চট্টগ্রামের হাসপাতালে পাঁচটি অপারেশনের জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছিল। এত টাকা আমাদের কাছে ছিল না। পরে চিকিৎসক নুরের তত্ত্বাবধানে মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের সহযোগিতায় আমার স্ত্রীর অপারেশন সম্পন্ন হয়। মাত্র ৬০ হাজার টাকায় পাঁচটি অপারেশন হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”

এদিকে, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা অন্যান্য রোগীরাও মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৭ সাল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে চকরিয়া মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল। ৫৪ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ জাকারিয়া।

২৫ শয্যার এ চিকিৎসাকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সিজারিয়ান ও স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার করা হয়। টিউমার, পিত্তথলির পাথর, জরায়ুর টিউমার, হার্নিয়া, পাইলস ও টনসিলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রোপচারের সুবিধা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “আমরা সবসময় রোগীর প্রয়োজন ও সামর্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। ছালেহা বেগমের ক্ষেত্রেও সেটিই করা হয়েছে। আমাদের অভিজ্ঞ চিকিৎসক মোহাম্মদ জেনারুল ইসলাম নুর একসঙ্গে পাঁচটি অপারেশন সম্পন্ন করেন। এটি আমাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ডায়াগনস্টিক সেবা পরিচালিত হচ্ছে। জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য অভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। জটিল সিজারিয়ান অপারেশনের পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করা হয়। শিশু ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা এবং নারী ও পুরুষ রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে।”

অর্থের অভাবে যখন জটিল চিকিৎসা থেকে পিছিয়ে যেতে হচ্ছিল একটি পরিবারকে, তখন তুলনামূলক কম খরচে একসঙ্গে পাঁচটি অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাওয়ায় ছালেহা বেগমের পরিবারে এখন স্বস্তির ছাপ। তাদের কাছে এই চিকিৎসা শুধু একটি অস্ত্রোপচার নয়, বরং অসহায় সময়ে নতুন করে আশার আলো।