নিজস্ব প্রতিবেদক
সড়ক দুর্ঘটনারোধে টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ের নয়াবাজারে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির যৌথ উদ্যোগে সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় কর্মসূচিতে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী, হ্নীলা ইউনিয়ন ৩,৫,৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাসরিন পারভীন, হ্নীলা ইউনিয়ন ৭,৮,৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মর্জিনা আক্তার, হোয়াইক্যং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারন সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়রে প্রধান শিক্ষক রূপন কান্তি বড়ুয়া, কানজরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, নয়াবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছৈয়দ হোছন, দৈনিক কক্সবাজার৭১ এর সহ-সম্পাদক তাহের নঈম, টেকনাফ উপজেলা নিরাপদ সড়ক চাই এর সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল উদ্দিন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ক সম্পাদক দলিল আহমেদ ফারুকী, হোয়াইক্যং টমটম চালক ও মালিক সমিতির সেক্রেটারি আবুল হাসান এবং হ্নীলা টমটম মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন আবু ও স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক, চালকসহ প্রায় ১৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অন্যতম কয়েকটি কারন হলো অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধ পার্কিং, অপ্রশস্ত রাস্তা, অদক্ষ চালকদের গাড়ি চালানো। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের অধিকতর সচেতন হওয়া জরুরী। যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, চালকসহ সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলাসহ রাস্তায় অতি দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।”

এছাড়া তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে সড়কে অবৈধ গাড়ি পার্কিং বন্ধ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

হ্নীলা টমটম মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন আবু বলেন, “স্থানীয়দের বিকল্প আয় বন্ধ রাখাতে চাপ পড়েছে পরিবহন সেক্টরে। রাস্তায় সেজন্য যানবাহন বেড়েছে। নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় অনেকে পরিবহন খাতে প্রবেশ করেছে। এর ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে এবং বেড়েছে দুর্ঘটনা। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন থেকে আমাদেরকে বিরত থাকতে হবে।”

স্থানীয় পথচারী নুরুল কবির রানা বলেন, “সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে রাস্তা পারাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে। কোন রকম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার এবং গাড়ি ওভারটেকিন করা যাবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে গতিরোধক বসিয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। ১৮ বছরের নিচে ড্রাইভিং করার অনুমতি দেওয়া যাবে না এবং লাইসেন্সবিহীন যাতে চালাতেন না পারে সেদিকে আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে।”

সভার সমাপনী বক্তব্যে কোস্ট ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পরিবহন মালিক এবং চালকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ঠিক করে কাজ করে যেতে হবে। আজকের এই সভার মাধ্যমে একটি কথা বলতে চাই, আর সেটি হলো- সড়কে কেউ যেন আর অকালে মৃত্যুবরণ না করে, কোন মায়ের বুক যেন আর খালি না হয়।”

সভায় কোস্ট ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আগমন এবং উখিয়া এবং টেকনাফে অবস্থানের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর একটি মারাত্বক প্রভাব পড়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো যানবাহন বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ। এছাড়া রয়েছে চালক এবং যাত্রীদের অসচেতনতা। এর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।