বার্তা পরিবেশক:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচলের রাস্তার ওপর সিঁড়ি নির্মাণ ও ছাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নির্মাণকাজ চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে নির্মাণ শ্রমিকদের মাঝিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আর কাজ করবেন না—এমন শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আদালতের নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং বাদীপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের ফকিরখালী পাড়া ও পদ্মাপুকুর পাড়া এলাকার একটি চলাচলের রাস্তা ও সংলগ্ন জমি নিয়ে এ বিরোধের সূত্রপাত। এ বিষয়ে মহেশখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন প্রথম পক্ষের মো. ইসহাক। মামলায় দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন সলিম উল্লাহ ও আলতাফ হোসেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিরোধপূর্ণ জমিটি মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক মৌজার বিএস ১০৪০ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৬২১ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত। মূল তফসিলে জমির পরিমাণ ০.২৩৫০ একর উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ১(ক) নম্বর তফসিলে ১০৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের একটি রাস্তা রয়েছে, যার জমির পরিমাণ ০.০১৪৬ একর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার এসআই শরীফুল জানান, আদালতের নোটিশ অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার শর্তে বিরোধপূর্ণ জমিতে অনধিকার প্রবেশ, বেদখল এবং রাস্তার রূপ পরিবর্তন না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদেশ অমান্য করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাস্তার ওপর সিঁড়ি নির্মাণ ও ছাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে চলাচলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি তার অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিরোধের স্থায়ী সমাধানের আশায় গত তিন থেকে চার বছর ধরে থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন তাঁরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিবাদীপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় মহেশখালী থানা পুলিশ ভুক্তভোগীকে আইনগতভাবে প্রশংসনীয় সহযোগিতা করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগী মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, আদালতের আদেশ কার্যকর করে বিরোধপূর্ণ রাস্তা দিয়ে আমার স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ বা রাস্তার পরিবর্তন যাতে না করা হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।