বিশেষ প্রতিবেদক:
বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার মোড়ল বাজার এলাকার মো: আব্দুল হাইয়ের মেয়ে জিন্নাতুন নেছা (২৯)। চাকুরি করে এনজিও সংস্থা হ্যান্ডেক্যাপে। চাকুরির সুবাধে আন্ডারগ্রাউন্ডেও চলাফেরা তার- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অবশেষে রাতভর আবাসিক হোটেলে ফস্টিনস্টি করে বের হওয়ার পথে শনিবার (২৭ জুলাই) ভোরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের জালে আটকে যায় জিন্নাতুন নেছা। সঙ্গে আটক হন তার গোপনসঙ্গি উখিয়ার পালংখালীর ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নাল আবেদিন।
পুলিশের দাবী মতে, ওই সময় তাদের কাছে থেকে ২০০ ইয়াবা, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ দেশীয় বন্দুকও পাওয়া গেছে। জয়নাল ও জিন্নাত পৃথক দুই মামলার আসামী হিসেবে বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছেন।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সদর থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) সনত বড়ুয়া।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে থেকে গ্রেফতার হওয়ার দিন পর্যন্ত উখিয়ার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পালংখালী ইউনিয়নের মেম্বার জয়নাল আবেদিন হ্যান্ডিক্যাপের জিন্নাতুন্নেছাকে রক্ষিতা হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। দুইজন মিলে ইয়াবা পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জানায়, এনজিওর গাড়ীতে মেম্বার জয়নালের ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি হাইফাই চালচলনে অভ্যস্ত জিন্নাত এর আগেও একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তবে এক পুরুষের সাথে সম্পর্ক বেশীদিন স্থায়ী হতো না জিন্নাতুন্নেছার। নুরুন্নবী নামের একজনের সঙ্গে জিন্নাতের আপত্তিকর ছবি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
জানা গেছে, চাকরির খাতিরে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগমনের পর স্থানীয় এনজিও সংস্থা মুক্তিতে প্রজেক্ট অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করে জিন্নাতুন নেছা।
এই সময় গোপন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে অন্য এক এনজিওর কর্মকর্তার সাথে। তার নাম নুরুন্নবী। এটা ২০১৮ সালের ঘটনা। কবি টাইপের এ কর্মকর্তার সাথে জিন্নাতের সম্পর্ক সে সময় এনজিও পাড়ায় ব্যাপক আলোড়ন তুলে। সেই থেকে নুরুন নবী-জিন্নাতের সম্পর্কের ইতি। এরপর জিন্নাত বিভিন্ন জনের সম্পর্ক গড়েও সুবিধা গড়তে পারেনি। সর্বশেষ ইয়াবা ব্যবসায় নেশায় পড়ে এনজিওর চাকুরিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পালংখালী ইউনিয়নের মেম্বার চিস্থিত ইয়াবা কারবারি জয়নালের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
সুযোগ পেয়ে ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি জিন্নাতকে রক্ষিতা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে বিএনপি নেতা জয়নাল মেম্বার।
শনিবার ভোরে কক্সবাজার শহরের গ্রীন প্যালেস এর সামনে থেকে জিন্নাতসহ জয়নাল মেম্বারকে আটক করে কক্সবাজার থানা পুলিশ। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ২টি তাজা কার্তুজ, একটি দেশী তৈরি বন্ধুক ও ২০০ ইয়াবা ট্যাবলেট।
জিন্নাত পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, সে এনজিও সংস্থা হ্যান্ডিক্যাপের প্রজেক্ট অফিসার।
কক্সবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক ও অস্ত্র আইনে আরও ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জয়নাল আবেদীন পালংখালী তাজনিমার খোলা গ্রামের মো: হোসেনের ছেলে। সে পালংখালী ৪নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার গ্রেফতার এড়াতে সে কক্সবাজারে আত্বগোপনে ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •