নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। “সিংহ” প্রতীকের এই প্রার্থী ২১ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, মাদক প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিকল্পনার কথা জানান।

ঘোষিত ইশতেহারে তিনি সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করে মাদক ও ইয়াবা প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বেআইনিভাবে সংগৃহীত জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রার্থী জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে এবং সরকারি অনুদান ব্যক্তিগত কৃতিত্ব হিসেবে প্রচার না করার নীতি অনুসরণ করা হবে। হোস্ট কমিউনিটির ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করাও তাঁর ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

কর্মসংস্থান বিষয়ে তিনি উখিয়া-টেকনাফে কর্মরত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় যুবকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাসের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শিক্ষা খাতে মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠনের প্রস্তাবও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবা প্রসঙ্গে থানায় মামলা গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ঘুষবিহীন সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি, মৎস্য, পানের বরজ ও সুপারি চাষসহ কৃষিভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়।

টেকনাফ বন্দরের কার্যক্রম সচল ও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে উখিয়া ও টেকনাফের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও সেবার মান উন্নয়নের অঙ্গীকার রয়েছে।

পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নে পৃথক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থান নির্ধারণ, পর্যটন স্পট বৃদ্ধি, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাকে পৌরসভায় রূপান্তরের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।

ইশতেহারের একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রস্তাব হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা জানানো হয়েছে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রমে সমন্বিত মতামত গ্রহণ করা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, উখিয়া-টেকনাফ আসনে রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক প্রতিরোধ ও কর্মসংস্থান—এই চারটি বিষয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রার্থীর ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো এসব ইস্যুকেই কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। তবে বাস্তবায়নযোগ্যতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং কেন্দ্রীয় নীতির সাথে সামঞ্জস্য—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার-৪ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নির্বাচনী প্রচারণা যত এগোবে, ততই বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।