আব্দুস সালাম,টেকনাফ :
কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) সংসদীয় আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে দেশের অন্যতম নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনের স্বর্গে পরিণত করা হবে। দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী আধুনিক জেটি নির্মাণ, উন্নত চিকিৎসা সেবা, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা এবং সহনীয় দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টেকনাফ উপজেলার প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন স্টেশনে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। পথসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সেন্টমার্টিন দ্বীপ এখনো পরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। ক্ষমতায় গেলে দ্বীপের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে আধুনিক ও নিরাপদ জেটি নির্মাণ করা হবে, যাতে পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াত ঝুঁকিমুক্ত হয়। পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দ্বীপের তরুণ-তরুণীদের পর্যটনবান্ধব মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক ভাষা শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দ্বীপেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে অতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ সরবরাহের যে সংকট রয়েছে, তা নিরসন করে স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে সেন্টমার্টিনকে সারা বছর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। উন্নয়ন হবে, কিন্তু প্রকৃতি ধ্বংস করে নয়—এটাই হবে বিএনপির নীতি।
পথসভায় বক্তব্য দেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও ফিরোজসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। সভায় সভাপতিত্ব করেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম।
এদিন পরে সেন্টমার্টিনে আয়োজিত পৃথক নারী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দ্বীপের নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু, নকশিকাঁথা ও হস্তশিল্পভিত্তিক পোশাক উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সেলাই, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা পরিবার ও সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে।
