নিজস্ব প্রতিবেদক :
দায়িত্ব পালনের বদলে চায়ের দোকানে বসে সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দিলেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টসহ দুজন পুলিশ সদস্য।
কক্সবাজারে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন না করে একটি চায়ের দোকানে বসে তিনজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের হুমকি ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। যেটির কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইতো অডিও ভাইরাল হয়েছে।
অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রাসেল দায়িত্বহীন ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, স্যার ওইটা আমি হলে তো গুলি করে রাস্তায় ফেলে দিতাম…
এসময় চায়ের দোকানদার প্রশ্ন করেন আপনি অস্ত্র কই পাবেন? জবাবে ট্রাফিক পুলিশ রাসেল বলেন, ভার্সিটির পরিত্যক্ত জায়গায় অস্ত্র আছে। আমার র্যাংক তো এসপি পেলাইতে পারবে না।আমি পিঠিয়ে এখান থেকে ট্রান্সফার হব।
কথোপকথনের একপর্যায়ে সেখানে বসে থাকা আরেক পুলিশ সদস্য অশালীন ভাষায় মন্তব্য করেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ সুভাষ বলেন, কক্সবাজারটাকে নষ্ট করছে সাংবাদিকরা। এরপর ট্রাফিক পুলিশ রাসেল সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে বলেন,বালের সাংবাদিক, এরা সাংবাদিক নাকি? মোবাইল সাংবাদিক এগুলা।
তিনি আরও বলেন,কক্সবাজারে বেশি জ্বালাইলে এদেরকে আমি জ্বালাইছি।
এসব রেকর্ডের অভিযোগ সার্জেন্ট রাসেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এসব কথা তিনি অন্যপ্রসঙ্গে বলেছেন।
সার্জেন্ট সুভাষ বলছে, এসব কথা তিনি বলেননি।
কিন্তু অডিও রেকর্ডে দুজনই কণ্ঠই স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে খারাপ মন্তব্য করতে।
অডিওতে থাকা এসব বক্তব্যে দায়িত্বশীল আচরণের চরম ঘাটতি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি হুমকির ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
এদিকে দুপুরে সাংবাদিক সংস্থা আয়োজিত মানববন্ধনে সংবাদকর্মী সালাহ উদ্দিন বলেছেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশ বিদেশ পত্রিকার প্রতিবেদক রাকিব আমীরকে ট্রাফিক পুলিশের হুমকি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ বিষয় জানিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া)অলক বিশ্বাসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এরকম অপরাধমূলক কোন কাজ করে থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রেকর্ড নিয়ে অফিসে এসে এসপি মহোদয়কে অবগত করলে বিষয়টি আরো ভালো হয় বলেও পরামর্শ দেন তিনি।
এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন কক্সবাজারের কর্মরত সাংবাদিকেরা।
