মিয়ানমারের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ সেই শিশুটি এখনও বেঁচে আছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু আফনানের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাকে বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের সময় ছুটে আসা একটি গুলি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার মোহাম্মদ জসিমের ঘরে এসে পড়ে। এ সময় জসিমের শিশু কন্যা আফনান মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়।
ঘটনার পরপরই শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সঠিক তথ্য নিশ্চিত করেন।
শিশুটির চাচা মোহাম্মদ শওকত চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, আফনানের অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয়। তার মাথায় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় এক আরসা সদস্যসহ আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সীমান্তের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওপারে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সাথে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘর্ষের জেরে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অন্তত ৫৩ জন রোহিঙ্গা সশস্ত্র সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
