সিবিএন ডেস্ক ;

নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন সূচনার প্রতীক। সারা বিশ্বেই এই আনন্দঘন মুহূর্তটি নানা আয়োজনে উদযাপন করা হয়। এ উদযাপন মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, যার একটি বহুল প্রচলিত মাধ্যম হলো আতশবাজি।

বৈশ্বিকভাবে প্রচলিত এই প্রবণতায় গা ভাসিয়ে বাংলাদেশেও বহু বছর ধরে আতশবাজির মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। তবে উন্নত অনেক দেশে এ ধরনের আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা থাকলেও বাংলাদেশে তা এখনো পর্যাপ্তভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে আনন্দের এই আয়োজন অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং প্রতিবছর হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ সামনে আসে।

আতশবাজি কোনোভাবেই প্রকৃত উদযাপনের প্রতীক হতে পারে না। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অনেক ক্ষেত্রে আতঙ্কের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুহূর্তের উল্লাসের নামে যে বিকট শব্দ, ধোঁয়া ও অগ্নিকণা ছড়ানো হয়, তা জনজীবনের জন্য কতটা মারাত্মক হুমকি—তা এখন মোটামুটি সবারই জানা।

উৎসবের নামে সৃষ্ট বিকট শব্দ, ধোঁয়া ও আগুন জনজীবন, পরিবেশ এবং পশুপাখির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ এতে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

এটি কেবল শব্দদূষণ নয়; এটি দায়িত্বহীনতার এক নগ্ন প্রকাশ। উৎসবের নামে মানুষের নিরাপত্তা, পরিবেশ ও মানবিক মূল্যবোধকে তুচ্ছ করা কোনোভাবেই সভ্য উদযাপন হতে পারে না।

যদি কোনো আনন্দ অন্যের ভয়, ক্ষতি ও জীবনের ঝুঁকির কারণ হয়, তবে সেই আনন্দ নিকৃষ্ট ও অগ্রহণযোগ্য।

সচেতনতা ও বিবেক থেকেই আমাদের এই ধ্বংসাত্মক অভ্যাস পরিহার করা উচিত। প্রকৃত উদযাপন মানে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিকতার সহাবস্থান—আতশবাজির আতঙ্ক নয়।

আসুন, আমরা সবাই এই বিপজ্জনক আচরণ থেকে বিরত থাকি এবং দায়িত্বশীল ও মানবিক উদযাপনের পথ বেছে নিই।

আব্দুল্লাহ সায়েম,

শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়