পোশাক শিল্প শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করেছে মজুরি বোর্ড।

রবিবার (১২ নভেম্বর) নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মোল্লা স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে বলা হয়, গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে নিযুক্ত সকল শ্রেণির শ্রমিক-কর্মচারীর নিম্নতম মজুরি হারের খসড়া সুপারিশের ওপর যদি কারও কোনো আপত্তি বা সুপারিশ থাকে তাহলে সেটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৪ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠাতে হবে। সময়সীমার মধ্যে কারও আপত্তি বা সুপারিশ থাকলে সেটি বিবেচনার পর বোর্ড সরকার কাছে এটিকে কার্যকর করার জন্য সুপারিশ পেশ করবে।

এদিকে গত ৭ নভেম্বর শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এক সংবাদ সম্মেলন করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি আট হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ করার ঘোষণা দেন। আগের তুলনায় এই মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় ৫৬.২৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া শ্রমিকদের বেতন গ্রেড সাতটি থেকে কমিয়ে পাঁচটি নির্ধারণ করা হয়।মোট বেতনের ৬৩ শতাংশ পাবেন বেসিক হিসেবে এবং পাশাপাশি প্রত্যেক শ্রমিক পরিবার একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

এদিকে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন মজুরি প্রত্যাখ্যান করে গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন করছে। বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। আন্দোলনে তাদের দাবি, সর্বনিম্ন মজুরি ২৩ হাজার টাকা করতে হবে। শ্রমিক আন্দোলনের ফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে পোশাক খাতে। এতে ১৩০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ২৫টি কারখানায় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।

এই আন্দোলনের পেছনে বিএনপির হাত আছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি রোববার (১২ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে। তাদের উসকানিতে শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। ইতোমধ্যে এই আন্দোলনে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর তাদের বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী।