আব্দুর রশিদ, বাইশারী:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং কৃষকদের মাঝে ব্যাপকভাবে সাড়া পেয়েছে ধানক্ষেতের পাচিং পদ্ধতি। ধান ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে পার্চিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ধানক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের পোকা আক্রমণ করে থাকে ঐ পোকার আক্রমণ ঠেকাতে কৃষকেরা তাদের ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকে। কীটনাশক ব্যবহার একদিকে যেমন ব্যয়বহুল অপরদিকে এতে রয়েছে বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনা করে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে ধানক্ষেতে পার্চিং পদ্ধতির ব্যবহার বাড়িয়ে উপজেলার প্রতিটি ব্লকে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে পার্চিং উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ উৎসবের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতনতার ফলে আর্থিকভাবে অনেক লাভবান হচ্ছে কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, পার্চিং পদ্ধতি হলো ধানক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডাল পোতে পাখিদের বসার ব্যবস্থা করা। ঐ ডালে বসে পাখিরা ধানক্ষেতে আক্রমণকারী পোকাগুলোকে খেয়ে ফেলে। যার ফলে ক্ষেতে কীটনাশকের প্রয়োজন অনেকটা কম হয়। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ঘুমধুম, সোনাইছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, দোছড়ি ও বাইশারী ইউনিয়নের ব্লক সহ অন্যান্য ব্লকে কৃষকদের মাঝেও পার্চিং পদ্ধতি উৎসবের মাধ্যমে সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল আলম জানান, পার্চিং পদ্ধতির ফলে ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ফসলের উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়। কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখাও সম্ভব হয়। ইতিমধ্যে পার্চিং পদ্ধতি উৎসবের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ফলে কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতি ব্যাপকভাবে সাড়া পেয়েছে বলেও তিনি জানান।

অপরদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী উপজেলার চাকঢালা, বিছামারা ও ধাবনখালী ব্লকে পার্চিং উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে সাড়া জাগানোও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি অফিস উপসহকারী কৃষি অফিসার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক দাশ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, উপসহকারী কৃষি অফিসার সেলিনা আক্তার, মোঃ ইয়াছিন, শহিদুল আলম, মহিবুল ইসলাম সহ কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।