আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গত কয়েকদিনে বিশ্বরেকর্ড সংক্রমণের মধ্যে চরম অক্সিজেন সংকটে ভেঙে পড়তে বসেছে ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় ‘সংহতির নিদর্শন’ হিসেবে দেশটিতে মেডিক্যাল সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তান। তবে নিজ দেশেই সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং অক্সিজেন সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে পাকিস্তানিদের এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের তথ্যমতে, দেশটিতে গত এক সপ্তাহে করোনাভাইরাসের কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ। আক্রান্তের হার বেড়েছে আরও বেশি- প্রায় সাড়ে এগারো শতাংশ। অর্থাৎ পরিষ্কারভাবেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষণীয়।

এ অবস্থায় পাকিস্তানের বেশ কিছু জায়গায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের উল্লেখযোগ্যভাবে দাম বেড়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসলে সেখানকার পরিস্থিতিও ভারতের মতো হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

জিও টিভির খবরে বলা হয়েছে, করাচিতে গত রোববার পাঁচ লিটারের প্রতিটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম দুই থেকে চার হাজার রুপি বেড়েছে।

এর একদিন আগেই দেশটির অক্সিজেন উৎপাদকরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বর্তমানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে উৎপাদন চালু রেখেছে। তবে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি যদি বজায় থাকে তাহলে পরিস্থিতি ভারতের মতো হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এর মধ্যেই গত শনিবার রাতে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ভারতের প্রতি ‘সংহতির নিদর্শন’ হিসেবে ভেন্টিলেটর, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ পাঠাতে চায়।

এক টুইটে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভারতের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি জানাই।

তিনি বলেন, পাকিস্তান সবার আগে মানবতায় বিশ্বাস করে বলেই এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিবৃতি পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সহায়তা সরঞ্জামগুলো দ্রুত ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাকিস্তান সরকার ছাড়াও দেশটির ইধি ফাউন্ডেশন ভারতে ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল কর্মী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইটারের এক বার্তায় ভারতের জনগণের প্রতি সংহতি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত আরোগ্য লাভের আশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক এই চ্যালেঞ্জ আমাদের একত্রে মোকাবিলা করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •