অনলাইন ডেস্ক:
এবার প্রকাশ্যে এল তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক খাশোগি হত্যার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে। ওই হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমনকি বিষয়টি দম্ভ করেও বলেছিলেন তিনি।

মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের প্রকাশিতব্য একটি বইতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের অক্টোবরে খাশোগির আততায়ীর হাতে নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি যুবরাজকে সুরক্ষা দিয়েছিল বলে ট্রাম্প দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেছিলেন।

খাশোগির হত্যার ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হট্টগোল লাগিয়ে দেওয়া নিয়ে উডওয়ার্ডের বইতে ট্রাম্পের একটি উদ্ধৃতি উঠে এসেছে, যাতে তিনি বলেন, আমি তাকে রক্ষা করেছি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাকে ছেড়ে দিতে আমি কংগ্রেসকে পাশে পেয়েছিলাম। যুবরাজের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে আমি তাদের থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলাম।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এ কলাম লেখক তার বিয়ে সংক্রান্ত কাগজপত্র তুলতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে আর ফেরত আসেননি। ৫৯ বছর বয়সী এ সাংবাদিক কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। সৌদি যুবরাজের সমালোচক এ সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইস্তাম্বুলে গিয়েছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিক উডওয়ার্ডকে সেসময় বলেছিলেন, যুবরাজের নির্দেশে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে এটি তিনি বিশ্বাস করেন না।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য মোহাম্মদ বিন সালমানের সরাসরি নির্দেশ ছিল।

খাশোগি হত্যাকাণ্ডে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি করেন ট্রাম্প। সৌদি আরব ও আরব আমিরাতকে ৮ বিলিয়ন ডলারের মিসাইল ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রির চুক্তি করেন তিনি।

এই অস্ত্র চুক্তি এবং ইয়েমেনে সৌদি-আমিরাতের অভিযানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তিনটি রেজুলেশন আটকে দেন তিনি।

আসছে ১৫ সেপ্টেম্বর উডওয়ার্ডের বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •