নিখোঁজ মা মেয়ে লাশ উদ্ধার 

নুরুলকবির,বান্দবরান  :

অবশেষে মাটি চাপা পড়া মা মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। বুধবার দুপুরে জেলা শহরের নিকটবর্তী কালাঘাটার লেমুঝিরি আগাপাড়ার ঘটনাস্থল থেকে মা-মেয়ের উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে বান্দরবানে পৃথক এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে নিহত হয়েছে চারজন। এখন লাশ উদ্ধার হওয়া মা-মেয়ের লাশসহ মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। এর আগে পাশর্^বর্তী আগাপাড়ায় একই পরিবারের তিন ভাইবোনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতের ঘটনার পর পরেরদিন সকালে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহন করে। বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি স্থানীয় প্রায় দু শতাধিক শ্রমিক ও সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় মাটিতে চাপা পড় মা-মেয়ের লাশ অবশেষে উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা। গত দুইদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় পাহাড় ধসের ঘটেছে। আর পাহাড়ের পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের মৃত্যুর মুখে পতিত করেছে।
এছাড়া বুধবার দুপুরে শহরের কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেন, যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেড কমান্ডার জুবায়ের সালেহীন, পাবত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈহ্লা, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়,পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী প্রমুখ। সেতুমন্ত্রী প্রথমে শহরের শহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্রের দুর্ঘটদের দেখতে যান। সেখানে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ধুলাবালির রাজনীতি করে। পার্বত্য এলাকায় এত বড় দুর্ঘটনা হলো বিএনপির কোনো নেতাকর্মী আসেনি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি, জনগণের জন্য উন্নয়ন করি। দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখার পরে সেতুমন্ত্রী বন্যায় দুর্ঘটদের জন্য ত্রাণ বিতরণ করেন।
এদিকে, গত দুইদিন ধরে ভারী বৃষ্টিতে অফিস, দোকানপাতসহ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে কয়েকশ ঘরবাড়ি নিমজ্জিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে পানিবন্দি ছিল হাজারো মানুষ। এরমধ্যে কয়েকশ লোক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার কবলে পড়ে জেলার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। সড়কে পানি উঠায়, ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় ও সড়কে উপর পাহাড় ধরে পড়ায় জেলা শহরের সঙ্গে রাঙ্গামাটির জেলার সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সঙ্গে অল্প পরিমাণ পরিবহন কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়া এলাকায় সড়কের উপর পানি ভেঙ্গে চলাচল করছে।
জানা গেছে, গত রোববার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। প্রবল ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের উপর পাহাড় ধসে পড়েছে। গত সোমবার রাতে পৃথক ঘটনায় পাহাড় ধসে পড়ে মাটি চাপা পড়ে মারা গেছে ছয়জন। নিহতরা হলো জেলা শহরের কালাঘাটা এলাকার পাহাড় ধসে নিহত হয়েছে বান্দরবান সরকারি কলেজের ছাত্র রেভা ত্রিপুরা (১৮)। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়ে। নিকটবর্তী লেমুঝিরি আগা পাড়ায় একই পরিবারের তিন ভাইবোন পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে মারা গেছে। এরা হলো সেতু বড়–য়া (১০), হৃদয় বড়–য়া (৭) ও লতা বড়–য়া (৩)। পাশর্^বর্তী জায়গায় থেকে গতকাল বুধবার উদ্ধার হওয়া কামরুন নেছা (৪০) ও তাঁর মেয়ে সুফিয়া আক্তার (১৩)। এদিকে গত রোববার রাত থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। উজানের পাহাড়ি ঢলে নদীর তীরবর্তী নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে লামা উপজেলা পৌর এলাকার ইউএনও অফিস, থানা, দোকানপাতসহ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে কয়েকশ পরিবার। শহরের সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী, বালাঘাটা ও কালাঘাটাসহ কয়েকটি জায়গায় কয়েকশ ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। উজানের পাহাড়ি ঢলের পানিতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে ভয়ে গেছে। এখন নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ব্রিজ ডুবে গেছে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়েছে। পাহাড় ধসে পড়াতে রুমা উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের সড়ক পথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সদর থানা ওসি রফিক উল্লাহ জানান, ঘটনাস্থল থেকে বুধবার দুপুরে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পানি সংরক্ষণ ও মৃত্তিকা অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো: মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ে মাটি ধরে রাখার মতো গাছ নেই। নির্বিচারে গাছ কাটা হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়কে ন্যাড়া করে চাষও করা হচ্ছে। যার ফলে একটু ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসের কারণে প্রাণনাশের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিনে দিনে।
……………………………………….