প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
মুসলিম বিদ্বেষী ও কট্টর সাম্প্রদায়িক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে নির্বিচারে গুলি করে নিরীহ ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে শহীদ ও আহত করার প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা। গতকাল (জুমাবার) হাটহাজারী, বি-বাড়িয়া, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত তাওহিদী ছাত্র-জনতাকে শহীদ ও আহত করার প্রতিবাদে এবং আগামীকাল ২৮ এপ্রিল (রবিবার) সকাল-সন্ধ্যা হরতালের সমর্থনে সংগঠনের কক্সবাজার জেলা শাখা ২৭ মার্চ (শনিবার) বিকেলে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে। বিশাল এ মিছিল চট্রগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঈমানদীপ্ত স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেন। পরে পুলিশি বাধার মুখে মিছিলটি সংক্ষিপ্ত করে এক বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্যদিয়ে সমাপ্ত করা হয়।
জেলা আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের মত একটি অসাম্প্রাদিয়ক, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে স্বাধীনতা দিবসে মুসলিম বিদ্বেষী, কট্টর সাম্প্রদায়িক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ এবং তার আগমন কোন দেশপ্রমিক নাগরিক বরদাশত করতে পারেন না। তাই এ উগ্রবাদী কুখ্যাত সাম্প্রদায়িক ব্যক্তির আগমনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ন্যায়সঙ্গত একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। এমতাবস্থায় মুসলিম প্রধান এ দেশে গুজরাটের কসাই খ্যাত মোদী বিরোধী আন্দোলনরতদের ওপর নির্মম হামলা, নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপরই নগ্ন আঘাত। স্বাধীনতা দিবসে আধিপত্যবাদমুক্ত স্বাধীনতাকামী তাওহিদী ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে শহীদ করা হলো কার স্বার্থে সে প্রশ্ন রাখেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ নির্মম হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান এবং শোকাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সেই সাথে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ সারাদেশের ন্যায় আগামীকাল কক্সবাজারেও সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালনের জন্য পরিবহন মালিক- শ্রমিক ও ব্যবসায়ীগণসহ জেলাবাসীর প্রতি আহবান জানান।
জেলা প্রচার সম্পাদক হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ ছালামতুল্লাহ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আনওয়ারুল আলম, নায়েবে আমীর মাওলানা কারী জহিরুল হক, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিকদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ মোহছেন শরীফ, জেলা নেতা মাওলানা মুহাম্মদ আ. হ. ম নুরুল কবির হিলালী, মাওলানা মুহাম্মদ হারুন, মাওলানা এরশাদুল্লাহ, মাওলানা আব্দুর রহমান জিহাদী, মাওলানা মাহবুব উল্লাহ নোমানী, মাওলানা শহিদুল্লাহ, মাওলানা হুমায়ুন কবির, মাওলানা ছালামতুল্লাহ আশরাফী, মাওলানা আব্দুল গফুর, মাওলানা রুহুল আমিন প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে শহীদানের রুহের মাগফিরাত, আহতের সুস্থতা এবং ঘোষিত কর্মসূচির সফলতা কামনা করে আল্লাহর দরবারে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন, জেলা আমীর, প্রবীণ আলেমেদ্বীন মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •