মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় স্কুল-মসজিদ ও কমপ্লেক্সের জন্য কোটি টাকার জমি দিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও টইটং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন আহমদ। অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে দিতে এ মুক্তিযোদ্ধা অনুন্নত এলাকায় শিক্ষা প্রসারের উদ্যোগ নেন। গ্রামে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়ে দিতে দেশের শ্রেষ্ট এ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষা প্রতিষ্টান ও ধর্মীয় প্রতিষ্টানের জন্য প্রায় কোটি টাকা মূল্যমানের ২ একর ২০ শতক জমি দান করেছেন।

জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের রমিজপাড়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধার দানকৃত জমিতেই এসব স্থাপনা স্থাপিত হচ্ছে। টইটং ইউনিয়নের পূর্ব সোনাইছড়ি রমিজপাড়ায় এবার প্রতিষ্টিত হচ্ছে বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ কমপ্লেক্স। পাহাড়ের নীচে ফসলী জমিতে স্থাপিত হতে যাচ্ছে স্কুল কাম কমপ্লেক্স। ইতিমধ্যে প্রাকৃতিক নৈসর্গঘেরা পাহাড়ী অঞ্চলে রমিজ উদ্দিন আহমদের নামকরণে একটি মসজিদ স্থাপিত হয়েছে। গত ২ মাস আগে থেকে ওই মসজিদ স্থাপন করা হয়েছে। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শুক্রবারে জুমার নামাজও আদায় হচ্ছে এ মসজিদে।

মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ জানান, একটি পূর্নাঙ্গ ও দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদ স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে নকশা ও ডিজাইন অংকন করা হয়েছে। বিদেশী স্থাপত্য শৈলীতে ওই মসজিদ নির্মিত হবে। পাশাপাশি দানকৃত জমিতে স্কুল ও কমপ্লেক্সও নির্মিত হবে।

এলাকাবাসীরা জানান, মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ একজন দানবীর ও সমাজ সেবক। ১৯৭১ সনে দেশ ও মাতৃকার জন্য মুক্তিযোদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পাক বাহিনীর সঙ্গে এ মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় শত্রুর সাথে প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়। পাক বাহিনীকে হটিয়ে রমিজ উদ্দিন আহমদসহ এ দেশের সূর্যসন্তানরা একটি মানচিত্র ও সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে আনে। তার এ অবদানের জন্য সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাবে ঘোষিত করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ টইটংসহ পেকুয়ায় সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও প্রশংসনীয় ব্যক্তিত্ব। ১৯৯০ সালের দিকে টইটং পৃথক ইউনিয়ন ঘটিত হয়। অবিভক্ত বারবাকিয়া থেকে পাহাড়ী জনপদ টইটং বিভক্তি হয়। এ সময় প্রথম নির্বাচনে টইটংয়ে বিপুল জনরায় নিয়ে রমিজ উদ্দিন আহমদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার সময়ে টইটংয়ের গ্রামীন জনপদ আমূল পরিবর্তন হয়। গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তাঘাট সংষ্কার ও ব্রীজ কালভার্ট নির্মিত হয়েছিল ব্যাপকভাবে। টইটংয়ে উন্নয়নে মূলধারার স্বপ্নদ্রস্টা এ রমিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি টইটংয়ের সর্বজন প্রশংসিত ব্যক্তি। মানুষ তাকে অসম্ভব ভক্তি ও শ্রদ্ধা দেখায়। জনপ্রিয় এ মানুষটি এখন শিক্ষা প্রসারের জন্য নিয়েছেন উদ্যোগ। এর সুত্র ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদ সোনাইছড়ি রমিজপাড়ায় প্রতিষ্টিত করছেন তার নামে কমপ্লেক্স। মসজিদ, স্কুল, এতিমখানা, কবরস্থান ও ইসলামিক সাংষ্কৃতিক কেন্দ্র পাঠাগারসহ এ কমপ্লেক্সে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রসারে সব ধরনের উপাদানসমূহ এ কমপ্লেক্সে ঠাঁই পাবে।

সোনাইছড়ি রমিজ পাড়ার বাসিন্দারা জানান, মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন আহমদের নামে অনেক আগে থেকে এ টইটংয়ে একটি গ্রামের নামকরণ রয়েছে। পূর্ব টইটংয়ের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনো শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আশপাশের ৮/১০ টি পাড়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্টান নেই। যোগাযোগ ও দূরত্বের কারনে এখানকার অনেক ছেলেমেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। যেহেতু পৃথিবী এখন শিক্ষা ছাড়া অচল তাই রমিজ উদ্দিন আহমদ এখানকার ছেলে, মেয়ে ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এ উদ্যোগটি নিয়েছেন। তিনি ৩ কানি জমি ইতিমধ্যে প্রতিস্টানের জন্য দান করেছেন। দলিল হস্তান্তর করেছেন। তার আগ্রহ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রয়োজনে আরও জমি দেয়ার সংকল্পও তিনি ঘোষনা দিয়েছেন। তবে এ সব প্রতিষ্টানের জন্য জমিতো তিনি দিয়েছেন। অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। তিনি নগদটাকাও ব্যয় করছেন ভবিষ্যতেও করবেন। দানশীল ও বিবেকবান ব্যক্তিবর্গ এ মহৎ কাজে হাত বাড়াবেন এমন প্রত্যাশা করছি আমরা। রাষ্ট্র, সরকার, এমপি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউএনও, ইউপির চেয়ারম্যান ও সাহায্যকারী প্রতিষ্টান সমূহকে আহবান করছি এ কমপ্লেক্স প্রতিষ্টা করতে রমিজ উদ্দিনের পাশাপাশি আপনারাও এগিয়ে আসুন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও টইটং ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন আহমদ জানান, আসলে অনেক দিনের কল্পনা আজকে বাস্তব প্রতিফলিত হচ্ছে। আমার মনের মধ্যে এমন বাসনা ছিল। বার্ধক্যতে এসে কাজটি শুরু করেছি। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে। মানবতার কল্যাণের জন্য কিছু না করলে নিজেকে অপরাধী মনে করছি। জমি দিয়েছি ৩ কানি। লাগলে আরও দেব। এখন উন্নয়ন ও অবকাঠামোর জন্য অর্থের প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •