মোঃ নিজাম উদ্দিন, চকরিয়া:
অনুপস্থিত ব্যক্তি বিদ্যুৎ গ্রাহক না হয়েও পল্লীবিদ্যুতের জরিমানার নোটিশ পেয়ে আতঙ্কে দিনপাত করছে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের এক বৃদ্ধ। এরূপ কাকতালীয় ঘটনায় স্থানীয় পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহকের মাঝে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে ডুলাহাজারা রংমহল গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা নুরুল ইসলামকে ৩০ হাজার ৫৩০ টাকা জরিমানা পরিশোধের সময় নির্ধারণ করে দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির নিয়োজিত কৌশলী কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের আইনজীবি দিলীপ কুমার আর্চায্য গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন। উল্লেখিত টাকা যথাসময়ে পরিশোধ না করলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। এ অবস্থায় মামলার হুমকিতে ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার সদস্যরা চরম আতঙ্কে ভুগছেন।
অভিযোগে নুরুল ইসলামের ছেলে সাহাব উদ্দিন জানান, ২০১০ সালের ৯মে তারিখে আর্থিক দৈন্যদশার কারনে রংমহল এলাকার বসতভিটাটি প্রতিবেশি মৃত মোহাম্মদ ইউনুছের ছেলে রশিদ আহমদকে বিক্রি করে তারা সপরিবারে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে চলে যান। সেখানে তাঁর পরিবার প্রায় ছয় বছর বসবাস করার পর গত দুইবছর আগে ফের পুরানো এলাকা রংমহল ফিরে আসেন। তবে পুরানো বসতভিটার অন্তত এক কিলোমিটার দুরে নুরুল ইসলামের পরিবার জায়গা কিনে নতুন করে বসতি গড়েছেন।
সাহাব উদ্দিনের অভিযোগ, ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর বাবা নুরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে অন্যত্র থাকলেও পল্লী বিদ্যুত সমিতি ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে চুরি করে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়ার ঘটনা দেখিয়ে তাঁর বাবা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩০ হাজার ৫৩০ টাকার বিদ্যুতের ক্ষতির অভিযোগ তুলেছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর একটি আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়োজিত আইনজীবি দিলীপ কুমার আর্চায্য। নোটিশটি হাতে পেয়ে ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এরূপ ঘটনা নিয়ে আতঙ্কিত রয়েছে স্থানীয় অন্যান্য বিদ্যুৎ গ্রাহকরাও।
ভুক্তভোগী নুরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে সাহাব উদ্দিন জানান, এলাকায় বসবাস না করে বিদ্যুত ব্যবহার না করলেও বিদ্যুত চুরির অভিযোগে ক্ষতিপুরণের টাকা আদায়ের জন্য আইনী নোটিশ পাঠানোর ঘটনাটি সম্ভবত বাংলাদেশে এই প্রথম ঘটেছে। এভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রাণি করা দেশের কোন আইনে পড়ে! বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুত সমিতি কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আমরা এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয় নেব।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •