cbn  

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:

চকরিয়ায় মোবাইল চুরির অভিযোগ তুলে ইব্রাহিম নয়ন নামের এক যুবককে জোরপূর্বক মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিবুল হক। বুধবার দুপুর বারোটার দিকে পৌরশহর চিরিঙ্গার এস আর প্লাজার সামনে থেকে ওই যুবককে ধরে বায়তুশ শরফ সড়কের একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করা হয়। ঘটনাটি গতকাল দুপুরের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনেকে এই ঘটনাটিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল হিসেবে গন্য করেছেন। আবার অনেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঘটনায় জড়িত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তুলেছেন আইন-শৃক্সক্ষলা বাহিনীর প্রতি।

কাউন্সিলর মুজিবুল হক মুজিব উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তিনি ইতোপুর্বে পৌরসভার নামার চিরিঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জহিরুল ইসলাম চৌধুরীর পরিবারের জায়গা দখল করে আলোচনার জন্ম দেন। পরে অবশ্য প্রশাসনিক চাপের মুখে তিনি বিষয়টি নিয়ে পিছু হটেন।

গতকালের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যুবককে ধরে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন চকরিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর মো. মুজিবুল হক। ঘটনার শিকার যুবকের নাম মো. ইব্রাহিম নয়ন (২৫)। তিনি চকরিয়া পৌরসভার ফুলতলা গ্রামের আবদুল মালেকের পুত্র। কয়েকমাস আগে সে পরিবার নিয়ে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়িয়া পাড়ায় বসবাস করে আসছিল।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ওই যুবক যদি কোন অপরাধও করে থাকে, তাহলে তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার নিয়ম রয়েছে। জনপ্রতিনিধি হলেও কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার আইন সমর্থন করেনা। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আক্রান্ত যুবক মো. ইব্রাহিম নয়ন দাবি করেন, গতকাল দুপুর বারোটার দিকে পৌরশহরের চিরিঙ্গা কাঁচাবাজার এলাকায় এক মহিলাকে উত্ত্যক্ত করে অপর এক বখাটে। এ সময় ওই মহিলার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ইব্রাহিম নয়ন। তখন উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় ওই বখাটেকে ধরতে ওই মহিলা অনুরোধ করেন ইব্রাহিম নয়নকে। মূহুর্তের মধ্যে বখাটের ফোনে আরো কয়েকজন বখাটে উপস্থিত হয় পৌরশহরের এস আর প্লাজার সামনে। এ সময় ওই স্থান থেকে ইব্রাহিম নয়নকে ধরে নিয়ে যায় পৌরসভার কাউন্সিলর মুজিবুল হকের কার্যালয়ে। সেখানে তাকে শারিরিকভাবে মারধরের পর সেলুনে নিয়ে গিয়ে ন্যাড়া করে দেওয়া হয় তার মাথা।

জানতে চাইলে কাউন্সিলর মুজিবুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত ‘যুবকটি মূলত মোবাইল চোর। সে পৌরসভার সওদাগরঘোনা এলাকার এক ব্যবসায়ীর মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ধাওয়া দেয়। এ সময় সে আমার সামনে পড়ে গেলে তার কাছ থেকে একটি মোবাইলও উদ্ধার করে ছিনতাইয়ের শিকার ব্যবসায়ীকে ফেরত দিই। পরে স্থানীয় জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেলুনে নিয়ে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দিই।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •